হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

খেলার শহর হতে চলেছে কিদ্দিয়া সিটি

ফিচার ডেস্ক  

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠছে এক বিস্ময়কর শহর। নাম কিদ্দিয়া সিটি। এটি যেন মানুষের অভিজ্ঞতা, বিনোদন এবং উন্নত জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাজানো এক স্বপ্নপুরী। কিদ্দিয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট কমিটির ভাইস চেয়ার মর্গান পার্কার সম্প্রতি আরব নিউজের একটি পডকাস্টে এই শহরের নেপথ্য দর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই শহর সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর এক বাস্তব প্রতিফলন। এটি শুধু শহর নয়, বরং বিশ্বের বুকে বিনোদন এবং আধুনিক নাগরিক জীবনের নতুন মানদণ্ড হয়ে ওঠার অপেক্ষায়।

৩৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বিস্তৃত এই শহর আয়তনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের তিন গুণ বড় হতে যাচ্ছে। ৫ লাখ বাসিন্দার আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি এখানে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। মর্গান পার্কারের মতে, কিদ্দিয়া সিটির মূল ভিত্তি হলো ‘প্লে’ বা খেলা। তিনি বলেন, ‘কিদ্দিয়া সিটি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি মানবিক সৃজনশীলতা এবং সুস্থতার চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

গ্যালারিতে বসে গোল দেখা কিংবা প্রিয় কোনো পারফরম্যান্স উপভোগ করার মুহূর্তগুলোকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে কিদ্দিয়া। ইতিহাসে শহরগুলো গড়ে উঠত নদী বা সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে অথবা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য। কিন্তু কিদ্দিয়া সিটি হবে এক নতুন ধারার শহর, যা পণ্য লেনদেন নয় বরং অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের কেন্দ্র হবে। মর্গান পার্কার বলেন, ‘নিউইয়র্ক যদি ফিন্যান্সের জন্য এবং প্যারিস যদি শিল্পের জন্য পরিচিত হয়, তবে কিদ্দিয়া সিটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হবে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং বিনোদনের সেরা গন্তব্য হিসেবে।’

যা থাকছে এই মেগা সিটিতে

বিনোদনের জন্য কিদ্দিয়া সিটিতে থাকছে বিশ্বমানের সব ধরনের আয়োজন। সিক্স ফ্ল্যাগস নামের একটি পার্ক এখন উন্মুক্ত। সেখানে ফ্যালকনস ফ্লাইট রোলার কোস্টারসহ ২৮টি রাইড রয়েছে। অ্যাকুয়্যারাবিয়া এই অঞ্চলের বৃহত্তম ওয়াটার থিমপার্ক। দ্রুতই এর যাত্রা শুরু হবে। এখানে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফর্মুলা ওয়ান ট্র্যাক এবং প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান স্টেডিয়াম। সেই স্টেডিয়ামে ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এ শহর হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম গেমারদের জন্য নিবেদিত বিশেষ এলাকা। স্যার নিক ফালডোর ডিজাইন করা বিশেষ গলফ কোর্সের আয়োজনও থাকবে কিদ্দিয়া নামের এই শহরে।

কিদ্দিয়া সিটিতে গড়ে উঠছে ২০টির বেশি আবাসিক এলাকা। অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা এবং ব্র্যান্ডেড বাসস্থানের পাশাপাশি এখানে থাকছে ৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র। ১২০টির বেশি হোটেল এবং জমজমাট শপিং স্ট্রিট শহরটিকে সব সময় প্রাণবন্ত করে তুলবে। শহরটিতে ডিজিটাল যুগের সব সুযোগ-সুবিধা এবং স্থায়িত্ব বা সাসটেইনেবিলিটি শুরু থেকে যুক্ত করা হয়েছে। এখানে থাকা হাই-স্পিড রেলের মাধ্যমে কিদ্দিয়া থেকে কিং সালমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। পুরো শহরে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৮টি স্টেশনসহ ডেডিকেটেড মেট্রোলাইন থাকবে।

পার্কারের মতে, একটি শহর কখনোই ‘সম্পূর্ণ’ হয় না। লন্ডন, নিউইয়র্ক কিংবা দুবাই যেমন প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে সাজায়, কিদ্দিয়াও তেমনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিবর্তিত হবে। তিনি একে একটি ‘প্রকল্প’ না বলে একটি ‘গিগানিটিয়াটিভ’ অথবা মেগা-উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: আরব নিউজ

রমজান মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনায় যা রাখতে হবে

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর এখন ‘লাভ কানেকশন’

কম খরচে বিমান ভ্রমণের কৌশল

চন্দ্রমল্লিকার বাগান থেকে ভাইরাল সড়কে

৮২ বছর বয়সে বিশ্বভ্রমণে দু লং

ভ্রমণপ্রেমী সাত বন্ধুর সংগঠন বেটুস

জনপ্রিয় ৫ ট্রাভেল ফিল্ম

চীন ভ্রমণে তালিকায় রাখুন ১০ গন্তব্য

শাকিলের এভারেস্ট জয়ের ছবি জিতল ইউএনডিপির অ্যাওয়ার্ড

রিসোর্ট বুকিংয়ের সময় যে ভুলগুলো করবেন না