হোম > জীবনধারা > ফিচার

অল্প নয়, বেশি সময় ধরে হাঁটুন

ফিচার ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য দিনে ১০ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্য এখন অনেকের রুটিন। কিন্তু আপনি মোট কত কদম হাঁটছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কীভাবে হাঁটছেন।’ অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সারা দিন অল্প অল্প করে না হেঁটে একনাগাড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অনেক বেশি উপকারী। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিনের মোট কদমের সংখ্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে দিনে অন্তত একবার ১৫ মিনিটের জন্য বিরতিহীন হাঁটুন। এই সামান্য পরিবর্তনই আপনার দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ হৃৎপিণ্ডের চাবিকাঠি হতে পারে।

৫ বনাম ১৫ মিনিট

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্পেনের ইউনিভার্সিদাদ ইউরোপিয়ার গবেষকেরা যুক্তরাজ্যের প্রায় ৩৩ হাজার ৫৬০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। এই অংশগ্রহণকারীরা দিনে গড়ে ৮ হাজার কদমের কম হাঁটতেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা একনাগাড়ে ১৫ মিনিটের বেশি হাঁটেন, তাঁদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম। যাঁরা মাত্র ৫ মিনিটের কম সময়ের ছোট ছোট স্পেলে হাঁটেন, তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এমনকি যাঁরা দিনে ৫ হাজার কদমের কম হাঁটেন, তাঁরাও যদি টানা ১০-১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন, তাহলে তাঁদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

কেন টানা হাঁটা বেশি কার্যকর

গবেষকদের মতে, একনাগাড়ে হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য ভালো ‘ওয়ার্কআউট’ হিসেবে কাজ করে। টানা হাঁটার ফলে হৃৎস্পন্দন একটি নির্দিষ্ট ছন্দে পৌঁছায়, যা রক্তসঞ্চালন উন্নত করে। প্রফেসর ইমানুয়েল স্ট্যামাটাকিস বলেন, ‘আমরা সাধারণত কত কদম হাঁটলাম, তার ওপর জোর দিই; কিন্তু হাঁটার ধরনকে গুরুত্ব দিই না। অথচ সামান্য পরিবর্তন অর্থাৎ হাঁটার সময়কাল বাড়িয়ে ১০-১৫ মিনিট করলে তা হৃৎস্বাস্থ্যের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।’

হাঁটার বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণ

হাঁটা শুধু ক্যালরি পোড়ায় না, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে।

* রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য হাঁটা অনেক জরুরি। নিয়মিত দ্রুত হাঁটা উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

* মানসিক প্রশান্তির জন্য হাঁটা অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্ট্রেস কমায় এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখে।

* নিয়মিত হাঁটা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।

* হাঁটার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক এবং ইমিউন সিস্টেম সচল রাখতে সহায়ক।

হাঁটার রুটিন শুরু করার ৫ টিপস

আপনি শারীরিকভাবে খুব একটা সক্রিয় না হলে নিচের কৌশলগুলো মেনে চলতে পারেন—

ধীরলয়ে শুরু: প্রথমে ৫-১০ মিনিট দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে সময় ও দূরত্ব বাড়ান।

লক্ষ্য নির্ধারণ: সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ২০-৪০ মিনিট হাঁটার বাস্তবসম্মত লক্ষ্য স্থির করুন।

একঘেয়েমি দূর করা: প্রতিদিন একই পথে না হেঁটে নতুন নতুন রাস্তা বেছে নিন। সম্ভব হলে ঘাসের ওপর বা মাটির পথে হাঁটুন।

সঙ্গী খুঁজে নিন: বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হাঁটুন। এতে হাঁটার আগ্রহ বজায় থাকে।

প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্টওয়াচ বা অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের অগ্রগতির ট্র্যাক রাখতে পারেন। আবার মাঝে মাঝে প্রযুক্তি ছাড়াই প্রকৃতির শব্দ উপভোগ করতে করতে হাঁটুন।

নিরাপদ হাঁটার সতর্কতা

রাতে হাঁটা: ভোরে বা রাতে কম আলোতে হাঁটার সময় উজ্জ্বল বা প্রতিফলন ঘটে এমন পোশাক পরুন। প্রয়োজনে টর্চ ব্যবহার করুন।

সঠিক জুতা: হাঁটার জন্য আরামদায়ক এবং সঠিক মাপের জুতা নির্বাচন করুন।

রাস্তা পারাপার: সব সময় নির্দিষ্ট ক্রসিং বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করুন, যাতে যানবাহন আপনাকে দেখতে পায়।

সূত্র: বিবিসি, মায়ো ক্লিনিক

বদলে যাওয়া সময়ে পরিবারের সঙ্গে বন্ধন অটুট রাখুন

কেন সবাই খুঁজছেন ‘কালিনারি ক্লাস ওয়ার্স’ শেফদের?

আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন

আপনি কি জীবনের ডার্ক নাইট কাটাচ্ছেন, জেনে নিন লক্ষণ ও উত্তরণের পথ

গ্রীষ্মে কেমন সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করবেন

অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস আপনার ক্ষতি করছে কি, জেনে নিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দিনটি কাটুক মায়ের মনের মতো

স্পর্শ কি কষ্ট কমানোর ওষুধ? জেনে নিন, নিঃসঙ্গ জীবনে স্পর্শের বিকল্প কী

জীবনে আসলে কজন বন্ধু প্রয়োজন?

বিরাট কোহলির মতো সংসার করছেন কি না, বুঝবেন যে ১০টি লক্ষণ দেখে