রমজান মাস দরজায় কড়া নাড়ছে। এদিকে চলছে ফাল্গুন মাস। প্রতিদিনই যেন আবহাওয়া একটু করে উষ্ণ হচ্ছে। এই রোজা আর আবহাওয়া—দুটিকে একসঙ্গে মেলাতে এ সময়ের পোশাক হওয়া চাই আরামদায়ক। রান্না ও ঘর গোছানোর পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন—সব সময়ই আপনি পরতে পারেন সুতি, লিনেন ও আর্টিফিশিয়াল সিল্কের পোশাক। তা হতে পারে সালোয়ার-কামিজ, কাফতান, টপস ইত্যাদি। যেহেতু রোজা চলে এসেছে, আর প্রায়ই ইফতারের দাওয়াতে যেতে হবে, তাই পোশাকে আরামের পাশাপাশি থাকতে পারে ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহার। বাড়িতে ইফতারে কাউকে দাওয়াত দিলে ব্লক বা স্ক্রিনপ্রিন্ট এবং অতিথিদের বাসায় দাওয়াতে গেলে একটু অভিজাত পোশাক পরতে পারেন। সেই পোশাকেও থাকতে পারে ব্লক কিংবা কারজুবির কাজ।
ডিজাইন ও মোটিফ যেমন হতে পারে
ঈদ উপলক্ষে নারীদের জন্য এথনিক, ট্র্যাডিশনাল ও ফিউশনের পাশাপাশি সমকালীন ট্রেন্ড অনুসারে বিভিন্ন ধরনের সুতি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ নিয়ে এসেছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস। পোশাকের ডিজাইনে জ্যামিতিক কিংবা ফুলসহ বিভিন্ন ধরনের মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাক অনন্য করে তোলে প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, মেটালিক হাতের কাজ এবং টাই-ডাই ও কারজুবির কাজ। এসব কালেকশন থেকে অনায়াসে জুতসই পোশাক বেছে নিতে পারেন।
লেইস ও ট্যাসেলের ব্যবহার আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে
এ বছর পোশাক এবং গাউনে লেইস ও ট্যাসেলের ব্যবহার বেড়েছে। পোশাকে বাটনের পরিবর্তেও ট্যাসেল বসানো হচ্ছে। সুতি ও লিনেনের সিঙ্গেল কামিজ ও টপসে লেইসের ব্যবহার বেড়েছে। কামিজ এবং ওড়নায় ট্যাসেলের ব্যবহার পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলছে।
যেসব পোশাক পরতে পারেন
শাড়ি, কুর্তি, কামিজ, পঞ্চ, কাফতান, সিঙ্গেল কামিজ ও টপসে বিভিন্ন ট্রেন্ডি প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে এবারের আয়োজনে। তরুণীদের কুর্তি ও সালোয়ার-কামিজে পশ্চিমা এবং সাবকন্টিনেন্ট ট্রেন্ড অনুযায়ী ফিউশন রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সালোয়ার-কামিজের প্যাটার্ন ও কাটিংয়ে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড।
যেসব রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন
এখন মেরুন, পেঁয়াজ, চেরি রেড, কমলা, হট ও কোরাল পিংক, ল্যাভেন্ডার, কফি, পার্পল, অলিভ গ্রিন, মিন্ট গ্রিন, ব্রোঞ্জ গ্রিন রঙের পোশাক এসেছে বাজারে। এ ছাড়া বিভিন্ন নীল রং; যেমন রয়্যাল নেভি, মেরিনো, ক্যাডেট, স্কাইয়ের মতো বিভিন্ন রঙের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেটে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ প্রায় প্রতিটি বড় শহরে দেশের নামকরা ফ্যাশন হাউসগুলোর আউটলেট আছে। সেগুলোতে তাদের সব ধরনের পোশাক পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া পুরো দেশের জেলা শহরগুলোর নিউমার্কেট বা সুপার মার্কেটে ঈদের সব পোশাক পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে ফেসবুক বা ওয়েবসাইটভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সব ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পোশাক এখন পুরো দেশে পাওয়া যায় কুরিয়ারের মাধ্যমে। দাওয়াতে পরে যাওয়ার মতো পোশাক ১ হাজার ২০০ থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ হাজার বা আরও বেশি দামে কেনা যাবে। দাম অবশ্য ব্র্যান্ড অনুসারে কম-বেশি হতে পারে।
যেভাবে পোশাক বাছাই করবেন
আপনজনের বাসায় দাওয়াত হলে খুব বেশি জমকালো পোশাকে যাওয়ার দরকার নেই। এ ক্ষেত্রে পোশাকে রুচির ছাপ থাকাই যথেষ্ট। সরল নকশার চিরায়ত প্যাটার্নের পোশাক এ সময় আপনাকে স্বস্তি দেবে। এ ধরনের দাওয়াতে নিরীক্ষাধর্মী পোশাক না পরাই ভালো।
তাপমাত্রা শোষণ করে এমন গাঢ় রঙের পোশাক এ সময় বেছে না নেওয়া ভালো। প্যাস্টেল কিংবা হালকা শেডের পোশাক আপনাকে কিছুটা আরাম বেশি দেবে। কারণ, এসব রং তাপ শোষণ না করে প্রতিফলিত করবে। পোশাকের প্যাটার্নে বাহুল্য এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এমন আবহাওয়ায় সাধারণ প্যাটার্নের পোশাক ভালো লাগবে। অলংকরণের ক্ষেত্রে বেছে নিন নান্দনিক নকশার সীমিত ব্যবহার হয়েছে এমন পোশাক।
মেকআপ নিয়ে কিছু কথা
ইফতারের দাওয়াতে খুব বেশি মেকআপ না করাই ভালো। বর্তমানে নো মেকআপ বা ন্যাচারাল মেকআপ লুক নারীর পছন্দের তালিকায় প্রথমে রয়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় হালকা মেকআপে সাজা বুদ্ধিমানের কাজ। দিনের মেকআপের ক্ষেত্রে ত্বক পরিষ্কার করে টোনার ও ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। এরপর স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। তারপর ফেস পাউডার লাগিয়ে নিন। হালকা রঙের লিপস্টিক বাছাই করা হবে আদর্শ।