আর কদিন পরই আসবে বাহারি বসন্ত। ফুল ফুটুক আর না ফুটুক—উদ্যাপিত হবে বসন্তের প্রথম দিন। সেদিন সখীরা মিলে কী ধরনের সাজপোশাকে নিজেদের সাজাবে, তারই জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গেছে নিশ্চয়! বসন্ত উৎসবে পরার জন্য তরুণীরা শাড়িকে বেশি প্রাধান্য দেন। নিজেরা রং কিংবা প্যাটার্ন মিলিয়ে শাড়ি পরতে আর ব্লাউজ বানাতেও কম যান না—‘বেস্টি’ বলে কথা! একই রকম শাড়ি পরে বসন্তে ঘুরে বেড়ানো, চা-ফুচকা-আইসক্রিম খাওয়া আর নানা ঢঙে ছবি তোলার মজাই তো আলাদা। এসব দেখে অন্যরা একটু ঈর্ষার চোখে তাকাবে, তা-ও যেন ভালোই লাগে। তবে সদ্য় তারুণ্যের স্বাদ পাওয়া মেয়েদের বসন্তে শাড়ি পরার ক্ষেত্রে একটু সচেতনতা প্রয়োজন। এমন শাড়ি পরা চাই, যা হবে ঋতু এবং বয়সের সঙ্গে মানানসই।
শাড়িতে বসন্তের মোটিফ
বসন্তের কথা বিবেচনা করে ফ্যাশন উদ্যোগ ‘সুরঞ্জনা’ নিয়ে এসেছে থিমভিত্তিক শাড়ি। বসন্ত মানেই প্রকৃতির নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে আসা। ফুল আর নতুন পাতায় সাজে প্রকৃতি। তাই বসন্তের রঙিন ফুল আর রং দেখা যাবে সুরঞ্জনার শাড়িতেও। এবারে শাড়িজুড়ে রয়েছে কাঞ্চন ফুল, আছে বারান্দা বাগানের ক্যাকটাস, আছে পাখির কলতান আর রাজপথজুড়ে রং ছড়ানোর জন্য বাগানবিলাস। এ ছাড়া রয়েছে শাড়িতে পোলকা ডট সিরিজ। সুরঞ্জনার এই শাড়ি সিরিজটির নাম ‘বাগিচা: মি ইন মাই গার্ডেন’। এই সিরিজের শাড়িগুলোতে আছে আঁচলজুড়ে নানা রকম দেশি-বিদেশি চেনা-অচেনা ফুলের মেলা আর জমিনজুড়ে আশির দশকের পোলকা ডট। সব মিলিয়ে বসন্তের জমকালো আয়োজন হবে সুরঞ্জনার ‘বাগিচা: মি ইন মাই গার্ডেন’ সিরিজের শাড়িতে।
সুরঞ্জনার স্বত্বাধিকারী নূর নাহার তৃপ্তি বলেন, ‘মোটিফ খেয়াল করলে দেখা যাবে, পোলকা ডটের সঙ্গে অনেক শাড়িতে আমরা চেক প্রিন্টও করেছি। পোলকা ডট বা চেক প্রিন্টের আবেদন সব সময় স্টাইলিশ ক্রেতাদের আকর্ষণ করে।’ এই সিরিজের সব শাড়ি সুতি কাপড়ে তৈরি। শাড়িতে করা হয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট। পুরো কাজের প্রতিটি ধাপে রয়েছে হাতের ছোঁয়া। হ্যান্ডমেইড এই শাড়িগুলো দেশীয় আবহে ঐতিহ্যকে ধারণ করে বসন্তকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা।
আমাদের দেশে ফেব্রুয়ারি মানে শুধু ফাল্গুন বা ভালোবাসা দিবস উদ্যাপন নয়। সঙ্গে রয়েছে অমর একুশের দিন। একুশ মানে সাদা, লাল আর কালো রঙের পোশাক। সেই ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে এবং ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে ফ্যাশন হাউস সুরঞ্জনা ডিজাইন করেছে সাদা ও কালো রঙের বিভিন্ন শাড়ি। একুশে উদ্যাপনে এগুলোও হতে পারে ভালো পছন্দ।
ঘোরাঘুরির জন্য যেমন শাড়ি পরা যেতে পারে
মিষ্টি হাওয়া বইলেও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে গরম একটু লাগতেই পারে। তাই শরীরে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম শুষে নেবে, এমন শাড়ি পরা উচিত। সে ক্ষেত্রে নূর নাহার তৃপ্তি বলেন, ‘সুতিই সেরা সমাধান। সুতির হালকা রঙের ছাপা শাড়ি কিংবা ব্লক-বাটিকের ট্রেন্ডি শাড়ি আরামদায়ক। বড় গলার স্লিভলেস কিংবা হাফ হাতার ব্লাউজের সঙ্গে এসব শাড়ি পুরো দিনটাকে স্বস্তিদায়ক করে তোলে। অনেকের ধারণা, সুতি শাড়ি বুঝি সাবেকি ঘরানার। শাড়ি ঐতিহ্যবাহী কিংবা সাবেকি ঘরানার ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে দারুণ স্টাইলিশও বটে।’
যুগ যুগ ধরে সুতি শাড়ির রং আর রূপ বদলালেও কদর কমেনি। এ শাড়ি যেমন আরামদায়ক, তেমনি এর রূপ-রঙের বৈচিত্র্য সব বয়সী মানুষের জন্য মানানসই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুতি শাড়ির আঁচল এবং পাড়ে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্য নিয়ে আসছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা।
ডিজাইনার ব্লাউজ সঙ্গী হোক
অনেক সময় সাদামাটা শাড়িতেও জমকালো লুক পাওয়া যায় শুধু ব্লাউজের কারণে। তাই ব্লাউজের জন্য নকশা, হাতা এবং ফ্যাব্রিকস বাছাই করা জরুরি। শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কিংবা এক শেড বাড়িয়ে ব্লাউজের রং নির্বাচন করা যেতে পারে। তা ছাড়া শাড়ির কাপড়ের সঙ্গে মিল রেখে ব্লাউজ বানিয়ে নেওয়া যায়।
এ ছাড়া ব্লাউজের হাতার বিভিন্ন ধরনের কাট আছে। সেসব কাটের ওপরও লুক বদলে যায়। তবে প্রিন্টের শাড়ির জন্য একরঙা ব্লাউজই সুন্দর মানিয়ে যায়। শাড়ির ঐতিহ্যে উদ্যাপন হোক বসন্ত, বন্ধুত্বের দিন।