হোম > জীবনধারা > ফ্যাশন

বসনে-ভূষণে কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি

বিভাবরী রায়

মডেল: ড. জাকিয়া সুলতানা, শাড়ি: সীবনী, । ছবি: হাসান রাজা

জাপানে চেরি ব্লসম যখন শেষ হয়, আমাদের এখানে কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি তখন সবে আড়মোড়া ভাঙতে শুরু করে। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়ে জানান দেয়, এখন আমার সময়। তারপর দিন যত গড়াতে থাকে; বত্রিশ, তেত্রিশ, চৌত্রিশ ডিগ্রি করে তাপের পারদ যখন চড়তে থাকে, তখন সবুজ উবে গিয়ে চারদিক হয়ে যায় লাল। দোলা লাগে মনে। কবিরা তো বটেই, পোশাকের নকশাকারেরাও নানান আঙ্গিকে, বিচিত্র ভঙ্গিতে কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি ব্যবহার করতে থাকেন পোশাকে। কৃষ্ণচূড়া তখন শুধুই একটা ফুল নয়, হয়ে ওঠে পোশাক নকশার মোটিফ।

বলা না হলেও এটাই বাস্তব যে কৃষ্ণচূড়াগাছের নিচ দিয়ে পথ পেরোনোর সময় অনেকে খুঁজতে থাকেন, সতেজ পাপড়িসহ একটি তাজা ফুল যদি কোথাও পড়ে থাকে! লালচে কমলারঙা ফুলটি পেয়ে গেলে কেউ তা খোঁপায় গোঁজেন, কেউ শাড়িতে ব্রোচের মতো সেঁটে নেন সেফটিপিন দিয়ে, কেউ অফিস কিংবা ঘর পর্যন্ত দিয়ে যান। এভাবেই আমরা মোহময় কৃষ্ণচূড়াকে ভালোবাসি।

ভরা গ্রীষ্মে গগন চুমে দেওয়া লাল কৃষ্ণচূড়াগাছটিই তো এই শহরের অলংকার! গরমে যখন নাভিশ্বাস, তখন খাঁ খাঁ রোদে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া দেখলে গ্রীষ্মের গরম কিছুটা হলেও ভুলে থাকা যায়। এই প্রশান্তি, ভালো লাগা আর আবেগ নিয়ে গত কয়েক বছরে আগুনরঙা ফুলটি জায়গা করে নিয়েছে আমাদের সাজপোশাক ও অনুষঙ্গে।

বলা বাহুল্য, ফ্যাশনপ্রেমীরা ঋতুভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন এরই মধ্যে। সেই সূত্রে আগুনঝরা গ্রীষ্মে ডিজাইনাররা পোশাকে কৃষ্ণচূড়া ফুলকে জায়গা করে দিয়েছেন। শাড়ি, ব্লাউজপিস, সালোয়ার-কামিজ, গয়না, চুলের কাঁটা, টিপ, ব্যাগের নকশা—কোথায় নেই প্রিয় ফুলটি!

সুতি, শিফন, হাফসিল্ক বা আর্টিফিশিয়াল সিল্ক এবং অন্যান্য পোশাকে মনের মতো করে ফুটিয়ে তুলছেন কৃষ্ণচূড়া। কেউ কেউ ব্যাগেও রংতুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন প্রিয় এই ফুল। কেউ কেউ হ্যান্ড পেইন্ট করছেন, কেউবা স্ক্রিনপ্রিন্ট বা ব্লকের কাজ করছেন পোশাকে এবং বিভিন্ন অনুষঙ্গে।

অফ হোয়াইট বা ঘিয়ে রঙের জমিনের ওপর টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়ার ছোপ। সরু পাড়েও কৃষ্ণচূড়া, তার সঙ্গে সবুজ বর্ডার। পুরো আঁচলও অফ হোয়াইট অথবা ঘিয়ে রঙের জমিনে টকটকে লাল। কিংবা আকাশি রঙের শিফন শাড়ির জমিনে বা আঁচলের অংশে এমব্রয়ডারি করা লাল কৃষ্ণচূড়া বসিয়ে নকশা করা হচ্ছে। এসব শাড়ি এখন গায়ে জড়াচ্ছেন তরুণীরা। সঙ্গে থাকছে ম্যাচিং করা ব্লাউজ, ব্যাগ বা অন্য কোনো অনুষঙ্গ।

শুধু শাড়িই নয়, পাঞ্জাবি ও সালোয়ার-কামিজেও ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, সুতার কাজ ও হ্যান্ড পেইন্টের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই ফুল। তবে ফ্যাশন উদ্যোগ সীবনী শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি পাঞ্জাবি ও টি-শার্টে কৃষ্ণচূড়ার মোটিফ ব্যবহার করে। সীবনীর স্বত্বাধিকারী আবেদা খাতুন মিতুল বলেন, ‘আমি মূলত বাংলাদেশের প্রকৃতিকে পোশাকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। কৃষ্ণচূড়া তারই একটি অংশ। দেশীয় নকশা যেন আশপাশের দেশের নকশার চেয়ে পিছিয়ে না থাকে, সেগুলো নিয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করি।’

ক্রেতাদের ঋতুভিত্তিক পোশাক পরার চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে শাড়িতে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটিয়ে তুলছেন হরিতকীর সহপ্রতিষ্ঠাতা অনিক কুণ্ড। আর্টিফিশিয়াল সিল্কের শাড়িতে কৃষ্ণচূড়া দিয়ে ডিজিটাল প্রিন্ট করেছেন তিনি। অনলাইন ফ্যাশন উদ্যোগ দ্বিভুজে পাওয়া যাবে কৃষ্ণচূড়া ফুলের কামিজ ও শাড়ি। প্রকৃতির রূপ ও রঙে মুগ্ধ হয়ে পোশাকে প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলেন দ্বিভুজের স্বত্বাধিকারী আসমাউল হুসনা মৌ। তিনি বলেন, ‘আমরা হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কাজ করি। তবে প্রকৃতিই আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।’

মডেল: মার্শিয়া শাড়ি: হরিতকী

■ ভূষণ ও অনুষঙ্গে কৃষ্ণচূড়া

গলার নেকলেস, কানের দুল, আংটি, চুলের কাঁটা, হাতের চুড়ি, বালা ইত্যাদি বিভিন্ন গয়নায় জায়গা করে নিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। কাঠ কিংবা ক্লে দিয়ে বানানো গয়নায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে কৃষ্ণচূড়ার আদল। গয়নার সৌন্দর্য বাড়াতে সুতা, বিডস ইত্যাদিও ব্যবহার করা হচ্ছে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে একই ডিজাইন ও মোটিফের টিপ, খোঁপার কাঁটা ইত্যাদিও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস

ও ফেসবুক পেজে। কেউ কেউ জুট বা ক্যানভাসের ব্যাগেও হ্যান্ড পেইন্ট ও ব্লকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন এই ফুল।

■ কোথায় পাবেন

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস এবং শপিং মলগুলো ছাড়াও অনলাইনভিত্তিক নানা ফ্যাশন পেজে পাওয়া যাবে কৃষ্ণচূড়া মোটিফের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, গয়না, টিপ ইত্যাদি। অনলাইন পেজ সীবনী, হরিতকী, দ্বিভুজ, কল্পলোকের চিত্র, রঙ্গিমা, পদ্মপুরাণ, স্টুডিও ‘র’ ইত্যাদিতে পেয়ে যাবেন এই মোটিফের পছন্দের পোশাক। অনলাইনে বিভিন্ন ডিআইওয়াই জুয়েলারি পেজ থেকে কাস্টমাইজ করে বানিয়েও নেওয়া যাবে কৃষ্ণচূড়া মোটিফের গয়না।

■ দরদাম

এ ধরনের পোশাকের দাম নির্ধারণ করা হয় ফ্যাব্রিকসের ধরন অনুযায়ী। প্রতিষ্ঠান ও উপকরণের ভিন্নতার কারণে একই পোশাকের দাম কমবেশি হতে পারে। সাধারণত কামিজ ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। ব্লাউজ পিসের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া টিপ, গয়না, ব্যাগসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ মিলবে ৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

গরমে আরাম দেবে সাদা রঙের পোশাক

গামছা পোশাক ও অলংকারে দেশীয় আইকন

চশমা পরলে কেমন হবে চোখের মেকআপ?

গরমে আরাম ও ফ্যাশনের সমন্বয় করবে স্টাইলিশ লেয়ারিং

জেন-জি ফ্যাশনে দাবার বোর্ড!

ফ্যাশন দুনিয়ার নতুন চমক ফেইসলেট

লাল ও সবুজ রঙের পোশাক যেভাবে পরবেন

রাশিফলে ভরসা করছে জেন-জি, পরছে রাশিচক্রের গয়নাও

এই ঈদে যেমন পোশাক বেছে নিতে পারেন

শাড়ির সঙ্গে হিজাব স্টাইলিং করবেন যেভাবে