বিষয়টি এখন আর সেলেনা গোমেজ বা কিম কার্দাশিয়ানের মতো সেলিব্রিটিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন অনেকেই সম্পর্কে বিচ্ছেদের মতো জীবনের একটি কঠিন ঘটনার পর পারলারে গিয়ে চুলে দিচ্ছেন ইচ্ছেমতো কাট। মনে হচ্ছে, বিচ্ছেদের পুরো দায়দায়িত্ব চুলের। আর কেটে ফেললেই পাওয়া যাবে শান্তি। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্রেকআপ কাট’। তবে চুল যে শুধু কেটেই ফেলা হচ্ছে, তা নয়। করা হচ্ছে রংও। কিন্তু কেন মানুষ জীবনের এ দুঃসময়ে চুলের ওপর এত প্রতিশোধ নেয়? কখনো ভেবে দেখেছেন, এর পেছনে কোনো গভীর মানসিক কারণ রয়েছে কি না?
চলুন দেখে নেওয়া যাক, বিচ্ছেদের সঙ্গে চুল কেটে ফেলা বা রং করার সম্ভাব্য কারণগুলো কী কী।
নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা
সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষ তাঁর নিজের মনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বিচ্ছেদের এ সময়ে পরিস্থিতি যখন আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, তখন মানুষ এমন কিছু খোঁজে, যা সে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। চুল হলো শরীরের সেই অংশ, যাতে খুব সহজে কাঁচি চালিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো বদলে ফেলা কিংবা রঙিন করা সম্ভব। আর চুলের নতুন কাট কিংবা নতুন আকার অথবা রং মানুষের চেহারা বদলে ফেলতে পারে। এতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নতুন রূপ দেখে অবচেতন মনে একধরনের স্বস্তি কাজ করে। এভাবে একজন সদ্য ব্রেকআপ হওয়া মানুষ অন্তত নিজেকে আশ্বস্ত করতে পারেন। নিজেকে দেখে বুঝতে পারেন, নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ এখনো আছে। এ ব্যাপারটি তাঁকে একধরনের আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্তি দেয়।
নতুন পরিচয়ের খোঁজ
পুরোনো চেহারাটি অনেক সময় পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি বহন করে। আয়নায় আগের মতো নিজেকে দেখলে বারবার সাবেকের কথা মনে পড়তে পারে। তাই চুলের স্টাইল বদলে ফেলা মানে হলো নিজেকে একটি নতুন পরিচয় দেওয়া। গবেষকদের মতে, এটি অনেকটা ‘নতুন আমি’ হয়ে ওঠার চেষ্টা। নিজেকে বোঝানো, ওই মানুষটির সঙ্গে আমার যে সত্তাটি ছিল, সেটি আমি ছেঁটে ফেলেছি।
ভারমুক্ত হওয়ার অনুভূতি
চুল ছোট করলে আক্ষরিক অর্থেই মাথার ওপর থেকে কিছুটা ওজন কমে। বিচ্ছেদের সময় মনের ওপর যে বিশাল বোঝা চেপে থাকে, চুল কাটার পর শারীরিক এই হালকা ভাবটি মানসিকভাবেও একধরনের মুক্তি দেয়। এটি একটি প্রতীকী প্রক্রিয়া, যেন চুলের সঙ্গে সঙ্গে মনের সব নেতিবাচকতাও মেঝেতে পড়ে যাচ্ছে!
ব্রেকআপের পর সুস্থ থাকবেন যেভাবে
চুল কাটা ছাড়াও বিচ্ছেদের পাহাড়সম কষ্ট সামলে উঠতে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে পারেন।
আবেগ চেপে রাখবেন না
বিচ্ছেদের পর মন খারাপ হওয়া বা কান্না পাওয়া খুব স্বাভাবিক। এই আবেগগুলো দমানোর চেষ্টা করবেন না। কাঁদলে অনেক সময় মন হালকা হয় এবং মানসিক চাপ কমে।
স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলুন
ঘর থেকে প্রাক্তনের ছবি, উপহার বা কোনো প্রিয় জিনিস যা তার কথা মনে করিয়ে দেয়, সেগুলো আপাতত সরিয়ে ফেলুন। ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও তাকে ‘আনফলো’ বা ‘ব্লক’ করা জরুরি। বারবার তার আপডেট দেখলে ক্ষত সেরে উঠতে দেরি হয়।
দোষের তালিকা করুন
বিচ্ছেদের পর আমরা কেবল প্রাক্তনের ভালো দিকগুলো মনে করি। এর বদলে তার খারাপ স্বভাব বা কেন সম্পর্কটি কাজ করেনি, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। এটি আপনাকে বাস্তবতায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে।
নিজের যত্ন নিন
পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার আর শরীরচর্চা এ সময়ে অত্যন্ত জরুরি। নিজেকে সময় দিন, নতুন কোনো শখ বা কাজ শুরু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেবে।
নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করুন
একা ঘরে বসে না থেকে পরিবার বা কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। মনের কথাগুলো শেয়ার করুন। প্রয়োজনে একজন পেশাদার কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। জরুরি বিষয় হলো, নতুন মানুষের সঙ্গে নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করুন। এতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হয়।
চুল কাটালেই হয়তো জীবনের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে না। কিন্তু এটি আপনাকে সে মুহূর্তে যে আত্মবিশ্বাস আর স্বস্তি দেবে, তা শোক কাটিয়ে ওঠার প্রথম ধাপ হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, আবেগের বশে এমন কোনো পরিবর্তন করবেন না, যা পরে আপনার অনুশোচনার কারণ হয়। নিজেকে ভালোবাসুন এবং মনে রাখুন, সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। আর নতুন চুলের মতোই জীবনও আবার নতুন করে বেড়ে ওঠে।
সূত্র: শোবিজ ডেইলি, মিডিয়াম