চীনাবাদাম বা গ্রাউন্ড নাট আমাদের দেশে অত্যন্ত পরিচিত একটি খাবার। অনেকে একে সাধারণ সস্তা স্ন্যাকস মনে করলেও পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি আসলে একটি সুপার ফুড। অনেকে বাজার থেকে সরাসরি ভাজা বাদামটাই কিনে খান। আবার অনেকে কাঁচা বাদাম নিয়ে এসে বিভিন্নভাবে ভেজে খান। বাদাম ভাজার আগে ধুয়ে নেওয়া অনেক সময় আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু নিখুঁত মুচমুচে বাদাম পেতে এই একটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা বাদামে রয়েছে প্রায় ৫৬৭ ক্যালরি। চর্বি ও ক্যালরি বেশি হওয়া সত্ত্বেও বাদাম ওজন বাড়াতে নয়, বরং কমাতে সাহায্য করে।
কেন বাদাম ধুয়ে ভাজবেন
চীনাবাদাম শুধু রোস্টেড স্ন্যাকস হিসেবে নয়, বরং এটি পিনাট বাটার, তেল বা ময়দা হিসেবেও চমৎকার। এর লাল পাতলা খোসায় সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাই খোসাসহ বাদাম খাওয়া বেশি উপকারী। বাদামের গায়ে লেগে থাকা ধুলোবালি ও ময়লা ধুয়ে ফেললে এটি খাওয়ার উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর হয়। এ ছাড়া শুকনো বাদাম সরাসরি ভাজলে এর বাইরের অংশ দ্রুত পুড়ে যায়, কিন্তু ভেতরটা কাঁচা থেকে যায়। ধুয়ে নিলে বাদামের ভেতরে কিছুটা আর্দ্রতা পৌঁছায়, যা তাপ পরিবহনের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে বাদামের ভেতর এবং বাইরে সমানভাবে ভাজা হয়। ধোয়া বাদাম যখন ধীরে ধীরে ভাজা হয়, তখন এর ভেতরের আর্দ্রতা পুরোপুরি বেরিয়ে গিয়ে বাদামকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মুচমুচে রাখে। ধুয়ে ভাজলে বাদামের প্রাকৃতিক অ্যারোমা বা সুঘ্রাণ বাড়ে এবং এটি সুন্দর সোনালি-বাদামি রং ধারণ করে। ধোয়া, শুকানো, ধীর আঁচে ভাজা এবং বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণই হলো নিখুঁত মুচমুচে বাদাম পাওয়ার সহজ উপায়।
নিখুঁতভাবে বাদাম ভাজার কৌশল
কাঁচা, ভাজা, সেদ্ধ, গুঁড়া কিংবা মাখনের মতো মসৃণ পিনাট বাটার—আপনি বাদাম যেভাবে পছন্দ করেন, সেভাবেই খেতে পারেন। তবে পাতলা লালচে খোসাসহ বাদাম বেশি পুষ্টিকর। কারণ, এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।
ধোয়া ও শুকানো
বাদামগুলো ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে না রাখা হয়। ধোয়ার পর পানি ঝরিয়ে ফ্যানের নিচে বা রোদে কয়েক ঘণ্টা শুকিয়ে নিতে হবে। অতিরিক্ত পানি থাকলে ভাজতে দেরি হবে এবং বাদামের খোসা কালো হয়ে যেতে পারে।
লবণের ব্যবহার
ভাজার আগে হালকা লবণপানিতে বাদাম ভিজিয়ে রাখলে লবণের স্বাদ ভেতরে পৌঁছায় এবং ভাজার পর খোসা ছাড়ানো সহজ হয়। শিল্প কারখানায় অনেক সময় বাদামকে ১০ শতাংশ লবণের মিশ্রণে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা হয়। এতে লবণের স্বাদ ভেতরে প্রবেশ করে এবং বাদাম অনেক বেশি সুস্বাদু হয়।
ভাজার সঠিক পদ্ধতি
চুলার আঁচে: প্রথমে মাঝারি আঁচে ভাজা শুরু করুন, যেন জলীয় ভাব কেটে যায়। এরপর আঁচ কমিয়ে একদম কম করে দিন। ভাজার সময় ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না বাদাম থেকে ‘ফট ফট’ শব্দ শোনা যায়।
ওভেন বা এয়ার ফ্রায়ারে: প্রথমে ১৫০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০ মিনিট ভাজুন। এরপর তাপমাত্রা কমিয়ে ৯০ থেকে ১০০ সেলসিয়াসে এনে আরও ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ভাজুন। এতে বাদাম অনেক বেশি ক্রিস্পি হবে।
ভাজা-পরবর্তী সতর্কতা
বাদাম ভাজা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে দ্রুত প্যান থেকে সরিয়ে ফেলুন। প্যানের অবশিষ্ট তাপে বাদাম পুড়ে তেতো হয়ে যেতে পারে। ভাজা বাদামগুলো পরিষ্কার কাগজ বা সুতি কাপড়ে জড়িয়ে রাখুন, যাতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়।
বিভিন্ন খাবারে যেভাবে বাদাম যোগ করবেন
কখন বাদাম এড়িয়ে চলবেন
এত গুণ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে বাদাম বিপদের কারণ হতে পারে।
অ্যালার্জি: অনেকের বাদামে মারাত্মক অ্যালার্জি থাকে, যা জীবনঘাতী হতে পারে।
অ্যাফলাটক্সিন বিষক্রিয়া: স্যাঁতসেঁতে জায়গায় সংরক্ষিত বাদামে একধরনের ছাতা বা মোল্ড জন্মায়, যা লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই সব সময় শুকনো ও ভালো মানের বাদাম নির্বাচন করুন।
অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টস: এতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড শরীরকে জিংক ও আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তবে সুষম খাবার খেলে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।
সূত্র: হেলথ লাইন, উইকি হাউ, ভিএন এক্সপ্রেস