ঈদুল আজহার আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে আমাদের খাবারের তালিকায় স্বভাবতই মাংসের বিভিন্ন পদের আধিক্য থাকে। পোলাও, বিরিয়ানি, রেজালা কিংবা কাবাবের মতো লোভনীয় সব ভারী খাবার টেবিলে সাজানো থাকলে জিভকে সামলানো দায় হয়ে পড়ে। অসুবিধা হতে পারে জেনেও অনেকেই বছরে তো একটাই কোরবানির ঈদ ভেবে কোনো বাছবিচার ছাড়াই খাওয়াদাওয়া করে থাকেন। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাংস খাওয়ার ফলে আনন্দের এই রেশ নিমিষেই ম্লান হয়ে যেতে পারে। গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা বদহজমের মতো অস্বস্তিকর সমস্যা ঈদের আনন্দ একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে মুহূর্তে। তাই রসনা বিলাসের পাশাপাশি এই ঈদে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ ও সচল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
খাবারের উপাদানের পাশাপাশি খাওয়ার অভ্যাসও হজমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পুষ্টিবিদ লিনা আকতারের পরামর্শ অনুযায়ী এই ঈদে বেশ কিছু পানীয় আপনাকে স্বস্তি দিতে পারে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
হালকা গরম পানি, লেবু ও লবণ
ভারী খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকের হার বাড়ে এবং ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায়। খাবার খাওয়ার মাঝখানে পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এ ছাড়া খাওয়ার পরপরই চা বা কফি পানের অভ্যাস বাদ দিন।
টক দই, বোরহানি ও মাঠা
যেকোনো ভারী খাবার খাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিকসসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এটি দ্রুত হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। কার্যকারিতা আরও বাড়াতে টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বোরহানি, লাচ্ছি বা মাঠা পান করতে পারেন।
আদা ও জিরা ভেজানো পানি
আদা দ্রুত খাবার ভাঙতে ও ভারী খাবারের পর হওয়া বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। জিরায় থাকা বিভিন্ন ঔষধি উপাদান পেটের গ্যাস কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। তবে মনে রাখবেন, কৃত্রিম বা বোতলজাত জিরা পানি উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে, তাই এটি পরিহার করুন।
মৌরি বীজ
মৌরি পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলোকে শিথিল বা শান্ত করতে সাহায্য করে। ভারী খাবার খাওয়ার পর এক চা-চামচ মৌরি বীজ চিবিয়ে খেলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়।
এ ছাড়া অ্যাপল সিডার ভিনেগার হজমের সমস্যা দূর করতে চমৎকার কাজ করে। ভারী খাবার খাওয়ার আগে বা পরে এক গ্লাস পানিতে এক চা-চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন। ফল খেতে চাইলে পেঁপে বা আনারসের মতো এনজাইমসমৃদ্ধ ফল বেছে নেওয়া ভালো।
সাধারণ বদহজম ঘরোয়া উপায়েই ভালো হয়ে যায়। তবে ঈদের পর যদি এই সমস্যা টানা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় কিংবা পেটে তীব্র ব্যথা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া বদহজমের সঙ্গে যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়, ঘন ঘন বমি বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, মল কালো হওয়া, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বদহজমের সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং বুক বা চোয়াল ও বাহুতে তীব্র ব্যথা থাকে, তবে অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া উচিত। কারণ, অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও সাধারণ বুকজ্বালা বা বদহজমের মতো মনে হতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন