যেভাবে সচেতন থাকবেন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এখনো বিশ্বজুড়ে এইডস একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ, সীমান্তবর্তী জেলা যশোর ও রাজশাহীর পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। সিরাজগঞ্জ ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এইডস সম্পর্কে আমরা মোটামুটি সবাই জানি। এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস) এমন একটি ভাইরাস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। অর্থাৎ এইডস এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্যান্য জীবাণু দিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।
অন্য মাধ্যমগুলো ছাড়াও একাধিক মানুষের ব্যবহার করা সুচ কিংবা সিরিঞ্জ থেকে যেমন এইচআইভি ভাইরাস ছড়ায়, তেমনি জেন্টস পারলারে ব্যবহৃত ব্লেড থেকেও সেটি ছড়াতে পারে। এ জন্য প্রায় সবাই সেলুনে শেভ করার সময় নতুন ব্লেড ব্যবহার করেন। এটি মোটামুটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু অনেকে জানেন না, পারলারে অন্য যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো থেকেও এইডস ছড়াতে পারে।
পারলারে পেডিকিউর বা মেনিকিউর করানোর সময় ব্যবহৃত নেইলকাটার, পুশার, কিউটিকল কাটার, ব্রণ স্টিক ইত্যাদির মতো যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে রক্তপাতের আশঙ্কা আছে, সেগুলো ব্যবহার ও ব্যবহারের পর কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। এই যন্ত্রগুলো একজনের সেবাদানের পর ভালোভাবে ডিসইনফেক্ট করে তারপর আরেকজনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে। পারলারের বাজেট ভালো থাকলে এগুলো বারবার নতুন কিনে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণত এ জিনিসগুলো বারবার কেনা ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় একবার কিনেই ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রে যেটা করা যেতে পারে, এ ধরনের যন্ত্রগুলো পারলার বা সেলুন থেকে কিনে নিজেদের জন্য আলাদা প্যাক তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। প্রতিবার সেটা নিজেরা নিয়ে যেতে পারলে নিরাপদ থাকা যাবে।
ছেলেদের পারলারে শেভিংয়ের সময় ব্লেড ব্যবহার করার পর সাধারণত বদলে দেওয়া হয়। তারপরও ব্লেড বদল নিশ্চিত করে নিতে হবে। ট্রিমার ব্যবহারের ক্ষেত্রে জিরো ট্রিমিং দিয়ে কাজ করতে গেলেও অনেক সময় ত্বক কেটে যেতে পারে, রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু ট্রিমার যেহেতু ইলেকট্রনিক যন্ত্র, তাই তা গরম পানিতে ফোটানো যায় না বা বারবার ডিসইনফেক্ট করা সম্ভব হয় না। তাই পারলারে ট্রিম করলে নিজের ব্যক্তিগত ট্রিমার নিয়ে যাওয়াই নিরাপদ।
পারলারে যাঁরা সেবা দেন, তাঁদের এই টুলসগুলো বারবার খুব ভালোভাবে ডিসইনফেক্ট করার বিষয়েও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। আলট্রাভায়োলেট রশ্মি যুক্ত কিছু বক্স পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করে এ ধরনের টুলস জীবাণুমুক্ত করা যায়। এগুলো মেনে চলার পরই পারলারে সেবা দিতে হবে। সেবা দেওয়ার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে পারলার ও সেলুনগুলোর ওপরও গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। কারণ, যখন দেখা যায়, এই যন্ত্রগুলো খুব পরিচ্ছন্ন ও যত্নসহকারে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সেলুনের প্রতি মানুষের ভরসা বাড়ে।
সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক রূপ নয়, সুস্থতাও সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ। ফলে সৌন্দর্যচর্চা যেন নিরাপদ হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পরামর্শ দিয়েছেন: শোভন সাহা, কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী