হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তায় আছেন? দেখে নিন, এ থেকে বাঁচতে কী করবেন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকার মতো অবস্থাকে এখন বলা হচ্ছে বিউটি অ্যাংজাইটি।ছবি: পেক্সেলস

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকার মতো অবস্থাকে এখন বলা হচ্ছে বিউটি অ্যাংজাইটি। খুঁজলে নিজের বন্ধুদের মধ্য়েও দু-একজনের দেখা পেয়ে যাবেন, যাঁরা প্রায়ই নিজের রূপ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। কী কী করলে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে তাঁদের সারা দিনের যত ভাবনা। নিজের পোশাক, স্টাইল, চুল বাঁধার ধরন, এমনকি কীভাবে হাসলে আরও আকর্ষণীয় দেখাবে, তারই অঙ্ক কষতে বেলা পার হয় তাঁদের। এখন তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ রয়েছে। এখানে অন্যদের নিখুঁত উপস্থাপন দেখলে একধরনের মানুষের নিজেকে নগণ্য মনে হতে শুরু করে। এই সমস্যাকে বলা হচ্ছে বিউটি অ্যাংজাইটি।

সৌন্দর্য যখন চাপের কারণ

এক যুগ আগের কথাই ভাবুন, সুন্দর দেখতে লাগা মানে তখন ছিল পরিপাটি হয়ে থাকা। বাড়তি হিসেবে নিজের ত্বক, চুল আর নখের যত্ন যুক্ত ছিল মাত্র। পোশাক-আশাক? ট্রেন্ড মেনে আর নিজের গড়ন বুঝে পরলেই চলত। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে, এই জায়গা দখল করে নিয়েছে নিখুঁত ত্বক, মেকআপ করা মুখ আর বছর বছর বদলে যাওয়া ট্রেন্ডি স্কিন কেয়ার রিচুয়াল। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিউটি ইন্ডাস্ট্রি এখন একপ্রকার রেসে পরিণত হয়েছে। নতুন ট্রেন্ড, নতুন ট্রিটমেন্ট আর সৌন্দর্যের নতুন দর্শন চাপে ফেলছে প্রতিনিয়ত। রোজকার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে মানুষ নিজেই মানসিক চাপে পড়ে যাচ্ছে এখন!

রোজকার যত্ন বনাম রূপ নিয়ে উদ্বেগ

নিজের ত্বক ও চুলের নিয়মিত যত্ন নিলে মনও ফুরফুরে থাকে। নিজেকে ভালো রাখতে এসব করা প্রয়োজন। কিন্তু বিউটি অ্যাংজাইটিতে যাঁরা ভোগেন, তাঁরা চুলের প্রতিটি গোছা ঠিক আছে কি না, মুখে নতুন দাগ পড়ল কি না, অন্যরা কী ভাবছে, তা নিয়েও চিন্তিত থাকেন। এই অযথা বিশ্লেষণই এখন অনেকের মানসিক চাপের উৎস। নিজেকে ভালো রাখার পরিবর্তে রূপচর্চার উদ্দেশ্য যদি হয় নিজের খুঁত আরও খুঁটিয়ে বের করা, তাহলে মানসিক চাপ কাজ করবেই।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব

বিউটি অ্যাংজাইটি শুধু বাহ্যিক নয়, এটি আত্মসম্মানেও গভীর প্রভাব ফেলে। মনোচিকিৎসকদের মতে, নিজের শরীর মূল্যায়নের বস্তু হিসেবে দেখতে শুরু করলে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। সেই অনুভূতি থেকে ‘কেউই আমাকে যথেষ্ট সুন্দর ভাববে না’ এই ভয় জন্ম নেয়। এই চাপ দীর্ঘ মেয়াদে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কাজের দক্ষতা এবং মানসিক শান্তিকে প্রভাবিত করে। মানুষ একধরনের অনিরাপত্তায় আটকে যায়। যেখানে নিজেকে ভালো লাগা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মুক্তির উপায়

বিউটি অ্যাংজাইটি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় শুরু হয় সচেতনতা থেকে। নিজের চেহারা নয়, নিজের অনুভূতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে সবার আগে। কমাতে হবে অন্য়ের সঙ্গে নিজের তুলনা করা। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে কেউ কারও পরিপূরক নয়। নিজেকে কতটা নিখুঁত দেখাচ্ছে, সেদিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে বরং নিজের ত্বক, চুল ও শরীরের সুস্থতার নিকে নজর দিলেই জীবনের সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যাবে। সেলফ-কেয়ার তখনই সত্যিকারের যত্ন হয়ে ওঠে, যখন তা ভালো লাগার উৎস হয়। বিউটি অ্যাংজাইটি আমাদের আধুনিক জীবনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ বটে, কিন্তু সচেতন মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ আর নিজের যা আছে, তা নিয়ে সুখী হওয়া হতে পারে এর প্রতিষেধক।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য

কর্মক্ষেত্রে কীভাবে ভিন্নমত জানাবেন? জানুন ৬ ম্যাজিক্যাল কৌশল

দাম্পত্য সম্পর্ক এবং সন্তানের মানসিক বিকাশ

ব্যবহৃত টি ব্যাগ না ফেলে যা করবেন

রাতে ঘুমানোর আগে পানি পানে আছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইমোশনাল সোব্রাইটি: জেনে নিন, কীভাবে মনের শক্তি অর্জন করবেন

গোসলের পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে চমক দেখুন

দীর্ঘ সময় বসে থাকার ১০টি প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি, জেনে নিন প্রতিকার

কেন মশা শুধু আপনাকেই কামড়াচ্ছে, জেনে নিন পরিত্রাণের উপায়

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আন্তসম্পর্ক গড়ে তুলতে যা করবেন

গরমে স্বস্তি দেবে গ্রিক কিউকাম্বার সালাদ, জানুন সংরক্ষণের উপায়