হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

পড়ার টেবিলের অস্থিরতা, দোষ কি শুধু শিশুর

ফিচার ডেস্ক

শ্রেণীকক্ষে প্রতিটি ডিজিটাল কাজের ক্ষেত্রে ভাবা উচিত পর্দায় কাজটির বদলে অফলাইন বা ব্যবহারিক পদ্ধতিতে তা শেখানো যায় কি না। ছবি: পেক্সেলস

পড়ার টেবিলে পেনসিল হাতে বসে থাকা এক বিষণ্ন শিশুর চিত্র অনেকের কাছে পরিচিত। পড়তে বসে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা, অস্থিরতা আর লেখা শেষ করতে না পারার দৃশ্য দেখলে আমরা শুরুতে ভেবে নিই, হয়তো পড়াশোনায় তার আগ্রহ নেই কিংবা লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি রয়েছে অথবা ঘরের পরিবেশ খারাপ। এভাবে আমরা প্রায় সময় মূল কারণ এড়িয়ে যাই। শিশুর এই মনোযোগহীনতার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আগের রাতের টানা দুই ঘণ্টার স্ক্রিন টাইম, দিনভর শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং তার শরীরে গোপনে বাসা বাঁধা স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন। আমরা এই সমস্যাগুলো আলাদা করে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম এবং পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি—এই তিন বিষয় মিলে তৈরি হয়েছে এক ‘অদৃশ্য ত্রিভুজ’। আমরা যখন তিনটি কোণ একসঙ্গে মিলিয়ে দেখব, তখন শিশুদের শেখার ক্ষেত্রের আসল জটিল চক্র সামনে আসবে।

দ্রুত নগরায়ণের ফলে শৈশব থেকে উন্মুক্ত মাঠ, মেঠো পথ আর খোলা বিকেলের আনন্দ হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে আইসিএমআর-এনআইএন রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শিশুদের স্বাস্থ্যসংকটের প্রধান কারণ। আর এই জীবনযাত্রার প্রভাবে শিশুরা পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় দীর্ঘ মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা হারাচ্ছে। এটি শুধু কোনো পারিবারিক ব্যর্থতা নয়, বরং আমাদের গড়ে তোলা আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার পরিণতি।

কীভাবে কাজ করে এই অদৃশ্য ত্রিভুজ

এই তিন উপাদানের মধ্যকার সম্পর্কটি পুরোপুরি জৈবিক—

স্ক্রিন টাইম ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব: অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের স্ক্রিন বা টিভি দেখা শিশুদের খেলাধুলা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে বিপাকক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুবিধাগুলো পাওয়া থেকে মস্তিষ্ক বঞ্চিত হয়।

স্থূলতা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা: শারীরিক সক্রিয়তা না থাকলে শক্তি বা ক্যালরির ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা স্থূলতা বাড়ায়। একই সঙ্গে এটি মস্তিষ্কের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ ধরে রাখা এবং শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই শিশুদের স্বাস্থ্যসংকটের প্রধান কারণ। আর এই জীবনযাত্রার প্রভাবেই শিশুরা পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় দীর্ঘ মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা হারাচ্ছে। ছবি: পেক্সেলস

সমাধানের পথ

সমস্যাটি বুঝতে পেরে এখন ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। যা করতে হবে—

স্মার্ট বোর্ড, লার্নিং অ্যাপ বা অনলাইন হোমওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয় নয়। তবে শ্রেণিকক্ষে প্রতিটি ডিজিটাল কাজের ক্ষেত্রে ভাবা উচিত পর্দায় কাজটির বদলে অফলাইন বা ব্যবহারিক পদ্ধতিতে তা শেখানো যায় কি না।

খেলাধুলা বা পিটি ক্লাসগুলোকে ‘অতিরিক্ত আনন্দ’ বা অপশনাল বিষয় না ভেবে পড়াশোনার ভিত্তি হিসেবে দেখতে হবে। ১০-১৫ মিনিটের শারীরচর্চাও মস্তিষ্কে নতুন শক্তি জোগায়।

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে এবং খাবারের টেবিলে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখা প্রয়োজন। শিশুরা উপদেশ বা নিয়মের চেয়ে মা-বাবার আচরণ থেকে বেশি শেখে।

শৈশব শুধু পরীক্ষার ভালো নম্বর নয়। আবার খেলাধুলাও কোনো বিলাসিতা নয়; বরং পড়া মনে রাখার জন্য একটি স্নায়বিক প্রয়োজন।

স্থূলতা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং লেখাপড়ার মান খারাপ হওয়াকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। শিশুরা যখন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠবে, তখন তাদের আলাদা করে পড়ার পেছনে দৌড়াতে হবে না; বরং এটি স্বাভাবিক ও টেকসইভাবে তাদের মেধা ও সাফল্যের বিকাশ ঘটাবে।

সূত্র: হেলথ লাইন

অনলাইন আসক্তি থেকে অফলাইনে অশান্তি, জানুন স্ক্রিন টাইম কমানোর ৫ উপায়

আপনার বিড়ালকে চমকে দিতে যেভাবে দিনটি উদ্‌যাপন করতে পারেন

সকালের ১০ অভ্যাসে ঝরাবে মেদ

মস্তিষ্কে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বেশি জায়গা নেয় কেন

মঞ্চে উঠলেই নার্ভাস? জেনে নিন আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কিছু কৌশল

কেন আমরা ক্রিঞ্জ কনটেন্টে আসক্ত

ফ্লু থেকে সেরে ওঠার পর ঘর জীবাণুমুক্ত করার উপায়

কেন ঘুমের মধ্যে চেপে ধরে নিশি ভূত!

রেশন কার্ড আর ৭ ঐতিহাসিক আইকনিক বিয়ের পোশাকের গল্প

দুই বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে কোন ধরনের আচরণ করবেন ও করবেন না