বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামা বলেছেন, সুখ আগে থেকে তৈরি করা কোনো বস্তু নয়। এটি আসে ব্যক্তির নিজের কাজের মাধ্যমে। সুখ শুধু বাইরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। এটি অনেক বেশি নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস এবং মানসিকতার ওপর। অনেকে মনে করেন, সুখ মানে সব সময় হাসিখুশি থাকা, যা আসলে সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে দিনের অধিকাংশ সময় আমরা সুখী থাকতে পারি। আপনার দিন কেমন কাটছে বা অন্যরা আপনার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছে, তার ওপর সুখ যতটা না নির্ভর করে, তার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে আপনি নিয়মিত কী করছেন তার ওপর।
কৃতজ্ঞতার শক্তি
জীবনের একপর্যায়ে আমরা অনেকেই হতাশা অনুভব করি। চারপাশে সুন্দর সম্পর্ক, পরিবার ও বন্ধু থাকা সত্ত্বেও সুখ খুঁজে পাই না। তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অন্যের কোনো সাফল্যের খবর দেখলেই আমরা নিজের খারাপের সঙ্গে সেগুলোকে মেলাতে থাকি। নিজের ওপর অসন্তুষ্টির কারণে ঋণের বোঝা, কর্মক্ষেত্রে অনাগ্রহ বা শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তির পথ হলো একটি তালিকা তৈরি করা। নিজের যা নেই বা যা পাননি, তা নিয়ে মন খারাপ না করে যা আপনার আছে, তার একটি তালিকা করুন। আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়, কর্মক্ষেত্র এমনকি চারপাশের প্রকৃতি—এ সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আপনার মানসিকতা দ্রুত বদলে যাবে। এটি আপনাকে নিয়ন্ত্রণহীন হতাশা থেকে বের করে এনে জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেবে।
প্রতিদিনের ৪ অভ্যাস
তিনটি ভালো কাজের তালিকা করুন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় দিনের অন্তত তিনটি ভালো বা ইতিবাচক ঘটনার কথা মনে করুন বা প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন। এটি আপনার মনকে না পাওয়ার বেদনা থেকে সরিয়ে পাওয়ার আনন্দে পূর্ণ করবে।
সুখী জীবনের জন্য যা বাদ দেবেন
রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস বলেছিলেন, ‘সুখী জীবনের জন্য খুব সামান্য কিছুর প্রয়োজন। এটি পুরোটাই আপনার নিজের ভেতরে, আপনার চিন্তার ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে।’ তাই সুখের জন্য কিছু বিষয় জীবন থেকে বাদ দিন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
অপরিবর্তনীয় বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা: যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।
আত্মসন্দেহ: নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আপনি যথেষ্ট ভালো—এ বিশ্বাস বজায় রাখুন।
তুলনা করা: অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা বন্ধ করুন। কেবল নিজের অতীতের চেয়ে বর্তমানের উন্নতির দিকে নজর দিন।
অভিযোগ ও অজুহাত: অভিযোগ করলে সমস্যার সমাধান হয় না। অভিযোগ করা মানে নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হতে দেওয়া। তাই সেটা বন্ধ করুন। আর অজুহাত দেওয়া মানে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকা। সেটিও বন্ধ করে জীবনের দায়িত্ব নিজে নিন।
নিয়ম আঁকড়ে থাকা: অভিভাবক বা সমাজের বেঁধে দেওয়া নিয়ম সব সময় ভালো ফল বয়ে আনে না। নিয়ম বা প্রথায় আটকে না থেকে বরং আপনি নিজে কিসে খুশি, তা খুঁজে বের করুন।
অতীত আঁকড়ে থাকা: অতীত মানে যাকে আর ফেরানোর পথ নেই। তাই সেটি আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। এ ছাড়া অতিরিক্ত নেতিবাচক বিষয় দেখা, শোনা ও পড়া বন্ধ করুন। এগুলো আপনার ওপর নিয়ন্ত্রণহীন চাপ সৃষ্টি করে।
একটি টিপস
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় নিন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন ‘আজ আমি সুখী থাকব।’ সুখ আসলে একটি সিদ্ধান্ত, যা প্রতিদিন নিতে হয়।
সূত্র: মিডিয়াম, স্টার্স ইনসাইডার, জেন হ্যাবিটস