নিয়ত অন্তরের কাজ, জিহ্বার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো কাজের শুরুতে মনের মধ্যে যে ইচ্ছা পোষণ করা হয়, সেটাকেই নিয়ত বলা হয়। নিয়ত রোজা শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত। কেউ মুখে উচ্চারণ না করলেও অন্তরে রোজার নিয়ত থাকলে তার রোজা আদায় হয়ে যাবে।
এ ছাড়া রমজান মাসে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে উঠে সেহরি খাওয়াকেই ইসলামবিষয়ক গবেষকগণ নিয়ত বলে গণ্য করেছেন।
ফরজ রোজার নিয়ত সেহরির সময় শেষ হওয়ার আগেই করার কথা হাদিসে নির্দেশিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১ / ৩৩৩)
তবে কোনো কারণে রাতে নিয়ত করতে না পারলে বা নিয়ত করার কথা ভুলে গেলে—দিনের অর্ধেক সময় (শরয়ি নিসফে নাহার বা দুপুর) অতিবাহিত হওয়ার আগপর্যন্ত নিয়ত করা যাবে। এর জন্য শর্ত হলো সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়ত করার আগপর্যন্ত রোজার পরিপন্থী কোনো কাজ করা যাবে না।
মনে রাখার বিষয় হলো, প্রতিটি রোজার নিয়ত পৃথকভাবে করতে হবে। কেননা প্রতিটি রোজা ভিন্ন ভিন্ন আমল। আর প্রতিটি আমলের জন্যই নিয়ত করা জরুরি। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি: ২)
তথ্যসূত্র: আল-বাহরুর রায়েক: ২/৪৫২; আল-জাওহারুতুন নাইয়িরাহ: ১/১৭৬; রদ্দুল মুখতার: ৩/৩৩৯, ৩৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৯৫; বাদায়েউস সানায়ে: ২/২২৯; আলমুহাল্লা: ৪/২৮৫; মাবসুত, সারাখসি: ৩/৬০