মানুষের চারপাশে যেমন ভালো বন্ধু থাকে, তেমনি অবধারিতভাবে কিছু শত্রুও তৈরি হয়। কেউ কেউ বন্ধুর ছদ্মবেশে ক্ষতি করার চক্রান্ত করে, আবার কেউ প্রকাশ্যে শত্রুতা করে। এই চক্রান্ত ও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে মানবীয় চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য নেওয়া একান্ত জরুরি।
যেকোনো বিপদ-আপদ, চক্রান্ত বা শত্রুর মোকাবিলার মুখে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সব সময় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় চাইতেন। শত্রুর ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে রাসুল (সা.) বেশ কয়েকটি অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া শিখিয়ে গেছেন।
বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো গোত্র, সম্প্রদায় বা শত্রুদলের পক্ষ থেকে আক্রমণ বা ক্ষতির আশঙ্কা করতেন, তখন এই দোয়াটি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিং শুরুরিহিম।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমরা তোমাকে শত্রুর মোকাবিলায় পেশ করছি, তুমিই তাদের দমন করো। আর তাদের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৭; মিশকাত)
শত্রুর কুচক্র বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা প্রকাশ করতে এই ছোট অথচ বরকতময় দোয়াটি পড়তেন, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।’ অর্থ: ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর তিনি কতই-না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (সহিহ বুখারি: ৪৫৬৩)
শত্রুর হাত থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি লাভ করতে এবং তাদের চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দিতে হাদিসে আরও একটি বিশেষ আমল বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাব, সারিয়াল হিসাব; মুজরিয়াস সাহাব, হাযিমাল আহযাব। আহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম।’ অর্থ: ‘হে আমার মালিক, কোরআন অবতীর্ণকারী; দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, মেঘকে পরিচালনাকারী। শত্রুবাহিনীকে পরাজিত ও প্রতিহত করো, তাদের দমন ও পরাভূত করো; তাদের মধ্যে কম্পন সৃষ্টি করে দাও।’ (আল-মুজামুল কাবির, তাবরানি: ৯৮৯)