সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক আসরে চালু হচ্ছে পৃথক নারী বিভাগ।
আসন্ন ৪৬তম আসরে নারী প্রতিযোগীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে আরব নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিযোগিতাটির ৪৬ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম বড় কোনো পরিবর্তন। ১৯৭৯ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু পুরুষ এতে অংশ নিতে পারতেন। সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজের একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দিয়েছেন বাদশাহ সালমান।
মক্কার মসজিদে হারামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও পবিত্র আসর হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নারী বিভাগ চালু করা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক। এর ফলে সারা বিশ্বের নারী ও পুরুষ উভয় শ্রেণির কোরআনে হাফেজদের জন্য প্রতিযোগিতার দুয়ার উন্মুক্ত হলো।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন প্রতিযোগিতার জন্য এরই মধ্যে সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবারের আসরটিকে নিখুঁত ও উচ্চমানসম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি সরকার। এ বছরের প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট।
ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ আলে-শায়খ এই সিদ্ধান্তের জন্য বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ পবিত্র কোরআনের প্রচার ও প্রসারে সৌদি নেতৃত্বের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের মেধা ও ভূমিকার প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি বড় প্রমাণ।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর মক্কায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে বাছাই করা হাফেজরা অংশ নিয়ে থাকেন। নারীদের জন্য আলাদা বিভাগ চালুর ফলে এবারের আসরটি আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।