জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত বরকতময়। এই দশকের বিশেষত ৯ জিলহজ বা ‘আরাফার দিন’ রোজা রাখা সুন্নত এবং মুমিনদের জন্য এক বিরাট সওয়াবের আমল।
আরাফার দিনের রোজা রাখার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,
‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৬১৭)
এ ছাড়া এই দিনটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের মতো অন্য কোনো দিন আল্লাহ তাআলা এত অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। এই দিনে মহান আল্লাহ দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের ইবাদত নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন, ‘আমার এই বান্দারা কী চায়?’ (অর্থাৎ তারা যা চায়, তা-ই দেওয়া হবে)। (সহিহ্ মুসলিম: ১৩৪৮)
নবী করিম (সা.) জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা রাখতেন। উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) চারটি আমল কখনো ত্যাগ করেননি:
হাদিস অনুযায়ী, জিলহজের প্রথম দশকের একেকটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং একেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমতুল্য। (জামে তিরমিজি: ৭৫৮)
চাঁদ দেখার ভিন্নতা অনুযায়ী, যে দেশে যেদিন জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিন, সেই দিনটিই ওই দেশের মুসলিমদের জন্য ‘আরাফার দিন’। ওই দিনই রোজা রাখতে হবে।
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী: বাংলাদেশে এ বছর (১৪৪৭ হিজরি) আরাফার দিন হলো ২৭ মে, বুধবার। যারা এই ফজিলতপূর্ণ রোজা রাখতে চান, তারা মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে সেহরি খেয়ে বুধবার দিনভর রোজা পালন করবেন।
হজ পালনকারীদের জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা সুন্নত নয়। নবীজি (সা.) বিদায় হজের সময় আরাফার ময়দানে রোজা রাখেননি। সাহাবিদের সংশয় দূর করার জন্য তিনি সবার সামনে এক পেয়ালা দুধ পান করে দেখিয়েছিলেন যে তিনি রোজা অবস্থায় নেই। (সহিহ্ বুখারি: ১৬৬১)
মূলত হাজিদের জন্য সুন্নত হলো ওই দিন রোজা না রাখা, যাতে তারা পূর্ণ শারীরিক শক্তি নিয়ে হজের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও দোয়া সম্পন্ন করতে পারেন। তবে কোনো হাজি যদি মনে করেন রোজা রাখলে তার আমলের কোনো ব্যাঘাত হবে না, তবে তাঁর জন্য রোজা রাখা জায়েজ বা মুবাহ।
সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এই বরকতময় দিনটিকে অবহেলায় না কাটিয়ে রোজার মাধ্যমে অতিবাহিত করা। মাত্র একটি রোজার বিনিময়ে দুই বছরের ছোট গুনাহ মাফ হওয়ার এই মহাসুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।