পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত ৮৯ নম্বর সুরা হলো ‘সুরা ফাজর’ (سورة الفجر)। মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ ৩০টি আয়াত, ১৩৯টি শব্দ ও ৫৭৩টি বর্ণসমৃদ্ধ এই সুরা নাজিল হওয়ার আদি ধারাক্রম অনুযায়ী দশম সুরা। মক্কায় নাজিল হওয়া অন্য অনেক সুরার মতো এটিও অত্যন্ত সুরময় ও ছন্দসমৃদ্ধ। এই সুরায় মানবজাতির জন্য যেমন রয়েছে বড় বড় সুসংবাদ, তেমনি রয়েছে অবাধ্যদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি।
সুরা ফাজরের শুরুতে মহান আল্লাহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শপথ করেছেন। এই অভূতপূর্ব শপথগুলো মূলত জালিম ও বলদর্পীদের জন্য খোদায়ি শাস্তির সতর্কবাণী। এরপরই আল্লাহ তাআলা প্রাচীন যুগের পরাক্রমশালী ও খোদাদ্রোহী জাতি—আদ, সামুদ এবং ফেরাউনের অবাধ্যতা ও তাদের ওপর নেমে আসা ধ্বংসের নির্মম পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু করছে, তার শাস্তি ও প্রতিদান নিশ্চিত। কেউ যেন ভেবে না নেয় পার পেয়ে যাবে; কারণ, মহান আল্লাহ সর্বাবস্থায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো সবার কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করছেন।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অর্থ: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
وَالْفَجْرِ (1)
উচ্চারণ: ওয়াল ফাজর।
অর্থ: শপথ ভোরের,
وَلَيَالٍ عَشْرٍ (2)
উচ্চারণ: ওয়া লায়ালিন আশর।
অর্থ: শপথ ১০ রাতের (জিলহজ মাসের প্রথম ১০ রাতের),
وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ (3)
উচ্চারণ: ওয়াশ শাফয়ি ওয়াল ওয়াতর।
অর্থ: শপথ জোড় ও বিজোড়ের,
وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ (4)
উচ্চারণ: ওয়াল্লাইলি ইজা ইয়াসর।
অর্থ: শপথ রাতের, যখন তা গত হতে থাকে,
هَلْ فِي ذَلِكَ قَسَمٌ لِّذِي حِجْرٍ (5)
উচ্চারণ: হাল ফী জালিকা ক্বাসামুল লিযী হিজর।
অর্থ: এর মধ্যে কি বুদ্ধিমানের জন্য কোনো শপথ আছে?
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ (6)
উচ্চারণ: আলাম তারা কাইফা ফাআলা রাব্বুকা বিআ-দ।
অর্থ: তুমি কি দেখোনি—তোমার প্রতিপালক আদ জাতির সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিলেন?
إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ (7)
উচ্চারণ: ইরামাদাতিল ইমা-দ।
অর্থ: বহুতল প্রাসাদের অধিকারী ইরাম গোত্রের সঙ্গে,
الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ (8)
উচ্চারণ: আল্লাতী লাম ইউখলাক্ব মিছলুহা ফিল বিলা-দ।
অর্থ: যাদের সমকক্ষ কোনো জাতি শহরসমূহে সৃজিত হয়নি,
وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِ (9)
উচ্চারণ: ওয়া ছামূদাল্লাযীনা জাবুস সাখরা বিল ওয়া-দ।
অর্থ: এবং সামুদ বংশের সঙ্গে—যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল,
وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ (10)
উচ্চারণ: ওয়া ফিরআউনা যিল আওতা-দ।
অর্থ: এবং বহু সেনাদলের অধিপতি ফেরাউনের সঙ্গে,
الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ (11)
উচ্চারণ: আল্লাযীনা তাগাও ফিল বিলা-দ।
অর্থ: যারা দেশসমূহে সীমা লঙ্ঘন করেছিল,
فَأَكْثَرُوا فِيهَا الْفَسَادَ (12)
উচ্চারণ: ফাআকছারূ ফীহাল ফাসা-দ।
অর্থ: অতঃপর, সেখানে তারা বিস্তর বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ (13)
উচ্চারণ: ফাসাব্বা আলাইহিম রাব্বুকা সাউতা আযা-ব।
অর্থ: ফলে তোমার প্রতিপালক তাদের ওপর শাস্তির কশাঘাত বর্ষণ করলেন।
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ (14)
উচ্চারণ: ইন্না রাব্বাকা লাবিল মিরসা-দ।
অর্থ: নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক অতন্দ্র প্রহরীর মতো পর্যবেক্ষণ করছেন।
فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَمَنِ (15)
উচ্চারণ: ফাআম্মাল ইনসানু ইযা মাবতালাহু রাব্বুহু ফাআকরামানু ওয়া নাআমাহু ফাইয়াক্বূলু রাব্বী আকরামান।
অর্থ: মানুষ তো এমন যে—তার প্রতিপালক যখন তাকে সম্মান ও অনুগ্রহ দান করে তাকে পরীক্ষা করেন, তখন সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে সম্মানিত করেছেন।’
وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَاهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَهَانَنِ (16)
উচ্চারণ: ওয়া আম্মা ইযা মাবতালাহু ফাক্বাদারা আলাইহি রিযক্বাহু ফাইয়াক্বূলু রাব্বী আহানান।
অর্থ: আর যখন তাকে পরীক্ষা করার জন্য তার রিজিক সংকুচিত করে দেন, তখন সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন।’
كَلَّا بَل لَّا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ (17)
উচ্চারণ: কাল্লা বাল্লা তুকরিমূনাল ইয়াতীম।
অর্থ: কখনো না! বরং তোমরা এতিমদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো না,
وَلَا تَحَاضُّونَ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ (18)
উচ্চারণ: ওয়ালা তাহাদদূনা আলা ত্বআ-মিল মিসকীন।
অর্থ: এবং অভাবগ্রস্তদের অন্নদানে একে অপরকে উৎসাহিত করো না,
وَتَأْكُلُونَ التُّرَاثَ أَكْلًا لَّمًّا (19)
উচ্চারণ: ওয়া তাকুলূনা ছুরাছা আকমাল লাম্মা।
অর্থ: এবং তোমরা উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পদ সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলো,
وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا (20)
উচ্চারণ: ওয়া তুহিব্বূনাল মা-লা খুব্বান জাম্মা।
অর্থ: আর তোমরা ধন-সম্পদকে অত্যন্ত গভীরভাবে ভালোবাসো।
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا (21)
উচ্চারণ: কাল্লা ইযা দুক্কাতিল আরদু দাক্কান দাক্কা।
অর্থ: কখনো না, যখন পৃথিবী চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে,
وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا (22)
উচ্চারণ: ওয়া জা-আ রাব্বুকা ওয়াল মালাকু সাফ্ফান সাফ্ফা।
অর্থ: এবং তোমার প্রতিপালক আগমন করবেন এবং ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে,
وَجِيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنسَانُ وَأَنَّى لَهُ الذِّكْرَى (23)
উচ্চারণ: ওয়া জী-আ ইয়াওমাইযিম বিজাহান্নামা ইয়াওমাইযিঁই ইয়াতাযাক্কারুল ইনসানু ওয়া আন্না লাহুয যিকরা।
অর্থ: এবং সেই দিন জাহান্নামকে সামনে আনা হবে; ওই দিন মানুষ বুঝতে পারবে, কিন্তু তখন এই উপলব্ধি তার কী কাজে আসবে?
يَقُولُ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي (24)
উচ্চারণ: ইয়াক্বূলু ইয়া লাইতানী ক্বাদ্দামতু লিহায়াতী।
অর্থ: সে আক্ষেপ করে বলবে, ‘হায়! আমি যদি আমার এই অনন্ত জীবনের জন্য আগে থেকেই কিছু সৎকাজ পাঠাতাম!’
فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ (25)
উচ্চারণ: ফাইয়াওমাইযিল লা ইউআযযিবু আযাবাহূ আহাদ।
অর্থ: ফলে, সেই দিন তাঁর (আল্লাহর) শাস্তির মতো শাস্তি কেউ দিতে পারবে না।
وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ (26)
উচ্চারণ: ওয়ালা ইয়ূছিক্বু ওয়া ছাক্বাহূ আহাদ।
অর্থ: আর তাঁর বাঁধার মতো শক্ত করে কেউ বাঁধতেও পারবে না।
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ (27)
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যাতুহান নাফসুল মুতমাইন্নাহ।
অর্থ: (হে ইমানদার!) হে প্রশান্ত আত্মা!
ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً (28)
উচ্চারণ: ইরজিঈ ইলা রাব্বিকি রাদিয়াতাম মারদিইয়াহ।
অর্থ: তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে,
فَادْخُلِي فِي عِبَادِي (29)
উচ্চারণ: ফাদখুলী ফী ইবাদী।
অর্থ: অতঃপর আমার (নেক) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও,
وَادْخُلِي جَنَّتِي (30)
উচ্চারণ: ওয়াদখুলী জান্নাতী।
অর্থ: এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।