হোম > ইসলাম

ইমাম নববী (রহ.): ইসলামি জ্ঞানভান্ডারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী

ইমাম নববী (রহ.)-এর কবর। ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসে কিছু মনীষী আসেন, যাঁদের জীবন ও কর্ম মানবসভ্যতাকে চিরকাল আলোকিত করে। ইমাম নববী (রহ.) ছিলেন তেমনই এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। মাত্র ৪৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানভান্ডারে যে অমূল্য রত্ন রেখে গেছেন, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।

জন্ম ও শৈশব: নাওয়া থেকে দামেস্ক

ইমাম নববীর পূর্ণনাম হলো আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী। তিনি ৬৩১ হিজরি (১২৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) সিরিয়ার নাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামেই সমাপ্ত করে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি তৎকালীন জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্র দামেস্কে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি সে সময়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের কাছে হাদিস, ফিকহ, উসুলে ফিকহ এবং আরবি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন।

ইমাম নববীর বিশ্ববিখ্যাত রচনাবলি

ইমাম নববী (রহ.)-এর রচনাবলি আজ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মুসলিমদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। তাঁর কিছু কালজয়ী কিতাব হলো:

  1. রিয়াজুস সালেহিন: এটি তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পঠিত হাদিস সংকলন। নৈতিকতা, ইবাদত ও সামাজিক জীবনের উপযোগী সহিহ্‌ হাদিসের এই সংকলনটি বিশ্বের সব মাদ্রাসা ও পরিবারে সমাদৃত।
  2. শরহু সহিহ্ মুসলিম: ইমাম মুসলিমের ‘সহিহ মুসলিম’-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ এটি।
  3. আল-আজকার: দৈনন্দিন জিকির ও দোয়ার ওপর অন্যতম প্রামাণ্য গ্রন্থ।
  4. চল্লিশ হাদিস (আরবাউন নববী): ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের এই সংকলনটি বিশ্বজুড়ে পাঠ্য।
  5. আত-তিবইয়ান: পবিত্র কোরআনের ধারক ও বাহকদের আদব বা শিষ্টাচার বিষয়ক অনন্য গ্রন্থ।

শাফেয়ি মাজহাবের প্রখ্যাত ফকিহ

তিনি কেবল মুহাদ্দিসই ছিলেন না, বরং শাফেয়ি মাজহাবের একজন প্রখ্যাত ফকিহ ছিলেন। তাঁর রচিত ‘মিনহাজুত তালেবিন’ এবং ‘রওয়াজুত তালেবিন’ গ্রন্থ দুটি শাফেয়ি ফিকহের মৌলিক এবং অপরিহার্য পাঠ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

ইমাম নববী (রহ.) ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু, অল্পে তুষ্ট এবং বিনয়ী।

  • অকৃতদার জীবন: জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর একাগ্রতা এত প্রবল ছিল যে তিনি বিয়ে করেননি। তাঁর উপনাম ‘আবু জাকারিয়া’ হলেও তাঁর কোনো সন্তান ছিল না।
  • নির্ভীক সত্যবাদিতা: তিনি শাসকদের সামনেও সত্য উপস্থাপনে পিছপা হতেন না। আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারত না।

ইন্তেকাল ও উত্তরাধিকার

৬৭৬ হিজরি (১২৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) মাত্র ৪৫ বছর বয়সে এই মহান জ্ঞানতাপস মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। খুব অল্প সময়ে ইলম ও ইবাদতের যে বিশাল উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

নামাজে দরুদ শরিফ পড়ার সঠিক নিয়ম

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ফেরাউন কে, তার আসল পরিচয় কী?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আনসার ও মুহাজির কারা, কেমন ছিল তাঁদের ভ্রাতৃত্ব

হারানো জিনিস ফিরে পেতে যে দোয়া পড়বেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১২ এপ্রিল ২০২৬