ইতিহাসে কিছু মনীষী আসেন, যাঁদের জীবন ও কর্ম মানবসভ্যতাকে চিরকাল আলোকিত করে। ইমাম নববী (রহ.) ছিলেন তেমনই এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। মাত্র ৪৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানভান্ডারে যে অমূল্য রত্ন রেখে গেছেন, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
ইমাম নববীর পূর্ণনাম হলো আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী। তিনি ৬৩১ হিজরি (১২৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) সিরিয়ার নাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামেই সমাপ্ত করে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি তৎকালীন জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্র দামেস্কে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি সে সময়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের কাছে হাদিস, ফিকহ, উসুলে ফিকহ এবং আরবি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন।
ইমাম নববী (রহ.)-এর রচনাবলি আজ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মুসলিমদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। তাঁর কিছু কালজয়ী কিতাব হলো:
তিনি কেবল মুহাদ্দিসই ছিলেন না, বরং শাফেয়ি মাজহাবের একজন প্রখ্যাত ফকিহ ছিলেন। তাঁর রচিত ‘মিনহাজুত তালেবিন’ এবং ‘রওয়াজুত তালেবিন’ গ্রন্থ দুটি শাফেয়ি ফিকহের মৌলিক এবং অপরিহার্য পাঠ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইমাম নববী (রহ.) ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু, অল্পে তুষ্ট এবং বিনয়ী।
৬৭৬ হিজরি (১২৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) মাত্র ৪৫ বছর বয়সে এই মহান জ্ঞানতাপস মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। খুব অল্প সময়ে ইলম ও ইবাদতের যে বিশাল উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।