হোম > ইসলাম

মুফতি শফি (রহ.) : উপমহাদেশের প্রখ্যাত ফকিহ

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী

মুফতি শফি উসমানি। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি জ্ঞানের মহাসমুদ্রে যারা চিরভাস্বর নক্ষত্রের মতো দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজ যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে নিমজ্জিত, তখন তিনি জ্ঞানের আলো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে বিশ্ববিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘মাআরিফুল কোরআন’-এর রচয়িতা, অনন্য ফকিহ এবং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার বিখ্যাত জনপদ দেওবন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা ইয়াসিন সাহেব ছিলেন একজন বুজুর্গ ব্যক্তি। জন্মের পর শায়খ রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি (রহ.) তাঁর নাম রাখেন। বুজুর্গানে দ্বীনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রেই লাভ করেছিলেন।

শিক্ষা-দীক্ষা ও মেধার স্বাক্ষর

নিজ শহরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। ইলম চর্চায় তিনি এতটাই নিমগ্ন থাকতেন যে, তাঁর সমসাময়িককালে এর দ্বিতীয় কোনো নজির ছিল না। জটিল বিষয় সহজে অন্যকে বোঝানোর ক্ষমতা ছিল তাঁর জন্মগত প্রতিভা। ছাত্রজীবনে তাঁর ‘তাকরার’ বা পাঠ পুনরাবৃত্তি সহপাঠীদের কাছে দ্বিতীয় দরস বা ক্লাসের মতো সমাদৃত ছিল।

হাকিমুল উম্মত হজরত থানভি (রহ.)-এর সান্নিধ্য

মাত্র ৯ বছর বয়সে তাঁর পিতা তাঁকে সময়ের শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.)-এর দরবারে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় শায়খের সান্নিধ্যে থেকে তিনি আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণতা লাভ করেন। হজরত থানভি (রহ.)-এর জ্ঞানতত্ত্বকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

কর্মজীবন ও অমর কীর্তি

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময় ও সফল:

  • গ্র্যান্ড মুফতি: তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর দারুল উলুম দেওবন্দের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • পাকিস্তান হিজরত: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তানে চলে যান।
  • দারুল উলুম করাচি: ১৯৫১ সালে তিনি পাকিস্তানের করাচিতে ঐতিহাসিক ‘দারুল উলুম করাচি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইসলামি বিদ্যাপীঠ।
  • রচনাবলি: তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো আট খণ্ডের তাফসির গ্রন্থ ‘মাআরিফুল কোরআন’। এ ছাড়াও সমসাময়িক ফিকহি গবেষণামূলক অসংখ্য কিতাব তিনি রচনা করেছেন।

উপসংহার ও ইন্তেকাল

১৯৭৬ সালে পাকিস্তানের করাচিতে এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন। দারুল উলুম করাচি প্রাঙ্গণেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। উপমহাদেশের ইসলামি ইতিহাসে ‘মুফতিয়ে আজম’ হিসেবে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রমজানে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার ৭ উপায়

ধোঁকাবাজ বিক্রেতাকে যেভাবে ধরলেন নবীজি (সা.)

রমজানের রোজা না রাখার সুযোগ আছে যাদের জন্য

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ মার্চ ২০২৬

ঈদের কেনাকাটায় অসহায়েরও অংশ থাকুক

ঈদের নামাজের কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে?

নবীজি (সা.)-এর দুর্দিনের সঙ্গী ছিলেন যিনি

রাসুল (সা.) যেভাবে জাকাত বণ্টন করতেন

শবে কদর: আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা লাভের মহাসুযোগ

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ মার্চ ২০২৬