হোম > ইসলাম

আকিকা কীভাবে দিতে হয়? ফজিলত কী?

ইসলাম ডেস্ক 

শিশুর মুখ যেন লেপ বা কম্বলে ঢেকে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছবি: পেক্সেলস

আকিকা নবজাতক শিশুর আগমনে শুকরিয়া আদায়ের অন্যতম মাধ্যম। আকিকা ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতও এটি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হাসান ও হোসাইনের পক্ষ থেকে দুটি করে বকরি জবেহ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

এ ছাড়া আকিকা শিশুর কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আলেমদের অনেকেই আকিকা করাকে সুন্নতে মুআক্কাদাহ বলেছেন।

আকিকার ফজিলত ও গুরুত্ব

আকিকা আদায়ের মাধ্যমে নানাবিধ আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ অর্জিত হয়:

  1. বালা-মুসিবত দূর হওয়া: আকিকার বরকতে নবজাতকের বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত দূর হয়।
  2. শয়তান থেকে সুরক্ষা: মুহাদ্দিসদের মতে, আকিকা সন্তানকে শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচানোর একটি শক্তিশালী উসিলা।
  3. শুকরিয়া আদায়: নতুন প্রাণের আগমনে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটি একটি উত্তম পন্থা।

আকিকা কীভাবে দিতে হয়?

আকিকা সঠিকভাবে আদায়ের জন্য কিছু নিয়ম ও সময় অনুসরণ করা সুন্নত:

১. আকিকার সময়:

  • সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে আকিকা করা সবচেয়ে উত্তম।
  • সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪তম দিনে এবং তাতেও সম্ভব না হলে ২১তম দিনেও করা যায়।
হজরত বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সপ্তম দিন বা চতুর্দশ দিন অথবা একুশতম দিন আকিকা কর।’ (জামে তিরমিজি)

এই সময়গুলোর মধ্যেও সম্ভব না হলে জীবনের যেকোনো সময় তা আদায় করে নেওয়া যায়।

২. পশুর সংখ্যা ও ধরন:

  • ছেলে সন্তানের জন্য: একই সমমানের দুটি ছাগল বা ভেড়া জবাই করা সুন্নত। তবে সামর্থ্য কম থাকলে একটি দিলেও মুস্তাহাব আদায় হয়ে যাবে।
  • মেয়ে সন্তানের জন্য: একটি ছাগল বা ভেড়া জবাই করা সুন্নত।
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) পুত্রসন্তানের জন্য দুটি ও কন্যাসন্তানের জন্য একটি পশু আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। (জামে তিরমিজি)
  • পশুর বয়স: আকিকার পশুর বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে এবং খাসি হওয়াই উত্তম।

৩. গোশতের বিধান:

  1. আকিকার গোশত কোরবানির গোশতের মতোই বণ্টন করা যায়।
  2. এই গোশত নিজেরা (বাবা-মা, নানা-নানি সবাই) খেতে পারবেন এবং আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মাঝে কাঁচা বা রান্না করে বিতরণ করা যাবে।

৪. আনুষঙ্গিক আমল:

সপ্তম দিনে আকিকা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুর মাথা মুণ্ডন করা এবং তার সুন্দর নাম রাখা সুন্নত।

চুলের ওজন পরিমাণ রুপা বা তার সমমূল্য সদকা করাও একটি মুস্তাহাব আমল।