হোম > ইসলাম

ধ্বংসস্তূপ থেকে কোরআন উদ্ধারে এক ফিলিস্তিনির লড়াই

কাউসার লাবীব

ছবি: সংগৃহীত

গাজা শহরের এক ক্লান্ত-শ্রান্ত ফুটপাতের সংকীর্ণ কোণ। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব আলহাজ রাফাত জাবের। তাঁর কোলের ওপর পোড়া প্রচ্ছদ আর ছিন্নভিন্ন কিছু কাগুজে পাতা। হাত দুটো অতি পরম মমতায় পাতাগুলোকে কুড়িয়ে একত্র করছে; যেন ইট-পাথরের নিচে চাপা পড়া কোনো হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিকে নতুন করে প্রাণ দেওয়ার ব্যাকুল চেষ্টা!

গাজার কোনো সজ্জিত ছাপাখানা বা আধুনিক বাইন্ডিং ওয়ার্কশপ এখন আর নেই। কিন্তু সেখানেই সূচনা হয়েছে এক ভিন্ন ধাঁচের পুনর্গঠনের গল্প। বোমা হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া মসজিদ আর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের স্তূপ থেকে ফিলিস্তিনিরা পরম যত্নে যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনের কপিগুলো বের করে আনছেন, রাফাত জাবের সেগুলোকে জোড়াতালি দিয়ে আবার আগের রূপ ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ নেই, নেই কোনো আধুনিক সরঞ্জাম। ছিঁড়ে যাওয়া পাতাগুলো আঠা দিয়ে জোড়া দেওয়া, পোড়া প্রচ্ছদ নতুন করে বাঁধাই করা—এই সামান্য আদিম সরঞ্জাম দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইসরায়েলি হামলায় শত শত মসজিদ মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার পর পুরো গাজায় যখন পবিত্র কোরআনের তীব্র সংকট, তখন জাবেরের এই নিভৃত প্রচেষ্টা আর কেবল বই মেরামতের কাজ নেই; রূপ নিয়েছে এক আত্মিক প্রতিরোধে।

ছবি: সংগৃহীত

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে জাবের বলেন, ‘মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ইট-পাথরের নিচ থেকে উদ্ধার করা ক্ষতবিক্ষত কোরআনের পাতাগুলো আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি সাধ্যমতো সেগুলোতে নতুন করে প্রাণ ফুটে তোলার চেষ্টা করি। প্রয়োজনীয় উপকরণের ভীষণ অভাব। সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর বড়জোর ৫ থেকে ৬টি কোরআন পুরো মেরামত করতে পারি। সংখ্যাটি দেখতে হয়তো খুব ছোট, কিন্তু চারপাশের অবরোধ আর ধ্বংসস্তূপের ভয়াবহতায় এই ছোট সংখ্যাটার অর্থ অনেক বড়।’

বই বাঁধাই ও সংরক্ষণের কাজ রাফাত জাবেরের জন্য নতুন কিছু নয়। জীবনের দীর্ঘ ৩০টি বছর তিনি এই পেশায় কাটিয়েছেন। যুদ্ধের আগে গাজার এক লোকাল মার্কেটে তাঁর একটি সুসজ্জিত দোকান ছিল। সেখানে বিদ্যুৎ ছিল, ভালো যন্ত্রপাতি ছিল, ছিল এক স্থিতিশীল জীবন। কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ তাঁর জীবনের হিসাব বদলে দিয়েছে। সুসজ্জিত দোকান থেকে তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন ধূলিমলিন ফুটপাতে; আর পেশাদার কাজ পরিণত হয়েছে অদম্য জেদ থেকে গড়ে ওঠা আত্মিক বিপ্লবে।

ছবি: সংগৃহীত

শত প্রতিকূলতার মাঝেও কাজ থামিয়ে দেওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবেন না জাবের। তিনি মনে করেন, চরম দুর্দশার মাঝেও এই কাজটি তাঁকে আত্মিক প্রশান্তি ও বেঁচে থাকার অমলিন আশা জোগায়। ‘সবকিছুর ওপরে এটি তো আল্লাহর কালামের খিদমত’—মৃদু হেসে বলেন তিনি।

ইসরায়েলি বাধার কারণে গাজা উপত্যকায় নতুন কোনো কোরআনের কপি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে যতটুকু রক্ষা করা যায়, সেটাই এখন গাজাবাসীর শেষ সম্বল। মানুষ একের পর এক পোড়া পাতা নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হচ্ছে। কারণ, জাবের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন গাজার মানুষের বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়।

আল জাজিরা অবলম্বনে

চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে ইসলামের ৪ নির্দেশনা

জুমার নামাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ৫ তথ্য

জানের বদলে জান সদকা করার বিষয়ে ইসলাম কী বলে

হারাম উপার্জন সম্পর্কে রাসুল (সা.)-এর সতর্কবার্তা

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৪ জুলাই ২০২৬

জুমার দিন কখন দোয়া কবুল হয়, হাদিসে যা বলা হয়েছে

জীবনের অস্থিরতা কাটাতে হাসান বসরি (রহ.)-এর ৪ উপদেশ

কিয়ামতের দিন যে ৪ প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৩ জুলাই ২০২৬

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যে সৌভাগ্যবানেরা