সুরা আসর কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। এ সুরায় মোট তিনটি আয়াত এবং ১৪টি শব্দ রয়েছে। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত।
পবিত্র কোরআনের ১০৩তম সুরা হলো সুরা আসর (سورة العصر)। মাত্র তিনটি আয়াতবিশিষ্ট এই সংক্ষিপ্ত সুরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম শাফেয়ি (র.)-এর মতে, যদি মানুষ কেবল এই সুরা নিয়ে চিন্তা করত, তবে তাদের ইহকাল ও পরকাল সংশোধনের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো।
তৎকালীন মক্কার কুরাইশ নেতা ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা ও আস ইবনে ওয়াইলরা দাবি করতেন যে, মুহাম্মদ (সা.) ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের এই অসার দাবির জবাবে আল্লাহ তাআলা এই সুরা নাজিল করেন।
অন্য এক বর্ণনামতে, জাহিলি যুগে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক বন্ধু কালাদাহ ইবনে উসাইদ তাঁকে ইসলাম গ্রহণের জন্য উপহাস করে বলেছিলেন যে, তিনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁর জবাবে আল্লাহ এই সুরার মাধ্যমে স্পষ্ট করেন যে, প্রকৃত ক্ষতি পার্থিব নয়, বরং পারলৌকিক।
এই সুরায় আল্লাহ সময়ের কসম খেয়ে বলেছেন যে, মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে চারটি গুণ যাদের মধ্যে থাকবে, তারা এই ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকবে:
তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষের আয়ু হলো তার ব্যবসার আসল পুঁজি। বরফ বিক্রেতার যেমন বরফ গলে যাওয়ার আগেই তা বিক্রি করতে হয়, তেমনি মানুষের হায়াত বা আয়ু শেষ হওয়ার আগেই তাকে এই চার গুণ অর্জন করতে হবে। প্রতিটি সেকেন্ড মানুষের জীবনের পুঁজি কমিয়ে দিচ্ছে, তাই সময়ের সদ্ব্যবহারই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।
সুরা আসর আমাদের শেখায় যে, জীবন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। কেবল নিজে ভালো হওয়া মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, বরং সমাজকে সত্য ও ধৈর্যের পথে পরিচালনা করাও মুমিনের দায়িত্ব।