মানুষ সৃষ্টির আগে মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতে ছিল ফেরেশতা ও জিন জাতি। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে ইবলিস থাকত ফেরেশতাদের সঙ্গে। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সে আদল-ইনসাফ ও আনুগত্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অভিশপ্ত হয়।
অধিকাংশ মুফাসসির ও গবেষকদের মতে, ইবলিস ছিল জিন জাতিভুক্ত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো; তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। সে ছিল জিনদের একজন। ফলে সে তার প্রতিপালকের আদেশ লঙ্ঘন করল।’ (সুরা কাহাফ: ৫০)
১. সৃষ্টির মূল উপাদান: হাদিস অনুযায়ী, ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে ‘নুর’ বা আলো থেকে, আর জিনদের সৃষ্টি ধোঁয়াহীন আগুন থেকে। (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৬)। ইবলিস নিজেই আল্লাহ তাআলাকে বলেছিল, ‘আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে (আদমকে) মাটি থেকে।’ (সুরা আরাফ: ১২)
২. অবাধ্যতা ও পাপকাজ: ফেরেশতারা নিষ্পাপ এবং তাঁরা কখনো আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না। (সুরা তাহরিম: ৬)। অন্যদিকে ইবলিস আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে অহংকার করেছিল।
৩. বংশবৃদ্ধি: ফেরেশতাদের কোনো লিঙ্গভেদ বা সন্তানসন্ততি নেই। কিন্তু ইবলিসের বংশধর রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে (ইবলিস) ও তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করছ?’ (সুরা কাহাফ: ৫০)
৪. স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি: মানুষের মতো জিনদেরও ভালো-মন্দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, যা ফেরেশতাদের নেই।
কেন করা হয়েছিল
আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর যখন ফেরেশতাদের সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন ইবলিস উচ্চ মর্যাদা ও ইবাদতের কারণে ফেরেশতাদের মজলিসে উপস্থিত ছিল। ফেরেশতাদের মতো মর্যাদার স্থানে অবস্থান করায় সেই সর্বজনীন আদেশ ইবলিসের ওপরও আবশ্যক বা প্রযোজ্য হয়েছিল।
ইবলিস মূলত তার অবাধ্যতা ও অহংকারের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে চিরতরে নিরাশ হয়ে ‘ইবলিস’ ও ‘শয়তান’ উপাধিতে অভিশপ্ত হয়।