ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গত ৩ ডিসেম্বর মার্কিন কমান্ডোরা তাঁর বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে নানান জল্পনা শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে পুতিনের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কির এই ভাবনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুতিনকে ধরে আনা বা গ্রেপ্তার করার কোনো ‘প্রয়োজন নেই’।
গত সপ্তাহে মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্পের প্রশংসা করে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি স্বৈরশাসকদের এভাবে শায়েস্তা করতে জানে, তবে এরপর কী করতে হবে তারা তা ভালোই জানে।’ জেলেনস্কির এই প্রচ্ছন্ন বার্তার জবাবে গতকাল তেল ও গ্যাস খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না পুতিনকে ধরার প্রয়োজন হবে। তাঁর সঙ্গে আমাদের সব সময়ই ভালো সম্পর্ক ছিল এবং থাকবে।’
তবে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তিনি পুতিনের ওপর ‘ভীষণ হতাশ’। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বে অন্তত আটটি যুদ্ধের মীমাংসা করেছি। ভেবেছিলাম রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটি এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ হবে, কিন্তু বিষয়টি সেভাবে এগোয়নি।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত মাসে ৩১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তাঁদের অনেকেই রুশ সেনা। রাশিয়ার অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির মীমাংসা হবে বলেই আমি মনে করি। কিন্তু এটা আরও দ্রুত হলে ভালো হতো। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সৈনিকেরাই মারা যাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে কারাকাসে নজিরবিহীন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে সরাসরি নিউইয়র্কের জেলে পাঠানো হয়।
পুতিনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ইউক্রেনসহ মার্কিন মিত্ররা আশা করেছিল ওয়াশিংটন হয়তো পুতিনের ওপরও একই চাপ প্রয়োগ করবে। কিন্তু ট্রাম্পের সবশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি আপাতত রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পক্ষপাতী।