মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল অবকাঠামো আগামী তিন দিনের মধ্যেই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবরোধের কারণে ইরান তার তেল জাহাজে তুলতে পারছে না, ফলে পাইপলাইনে জমে থাকা তেলের চাপ থেকে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষায়, তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে পাইপলাইনের ভেতরে ও মাটির নিচে যান্ত্রিক চাপ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, এমন ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সংরক্ষণ সক্ষমতা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ইরানকে শিগগিরই তেলক্ষেত্র বন্ধ করতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি বাধ্য হয়ে স্থলভাগের ট্যাংকে তেল জমা করছে, কিন্তু এসব ট্যাংকের ধারণক্ষমতা সীমিত।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট’ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘এনার্জি অ্যাসপেক্ট’ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের তেল সংরক্ষণের জায়গা পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। একবার ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না, যা দীর্ঘ মেয়াদে তেলক্ষেত্রের ক্ষতি করতে পারে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হলে জ্বালানি মজুত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করলেও আগের মাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ইরানের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে, পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক সমাধান হিসেবে ইরান সমুদ্রবন্দরে তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করে ভাসমান সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা, যা দীর্ঘ মেয়াদে সংকট কাটাতে যথেষ্ট নয়।