ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে দেশটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বছরের পর বছর ধরে চলা এই উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে দাবি করে আসছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তাদের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে দুই মিত্র দেশ বারবার শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয় এবং দেশটির অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তাঁদের দাবি, ইরানের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
মজার বিষয় হলো, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা (আইএইএ) এখন পর্যন্ত এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি যে ইরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক নীতিনির্ধারক ধারাবাহিকভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে আসছেন এবং একে হামলার প্রধান অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তবে আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যে দিয়ে চলমান এই উত্তেজনা ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিয়েছে। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই আক্রমণ কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।