ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে সহিংসতা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় ভাঙচুর চালাচ্ছে।
সকালবেলার এক বুলেটিনে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত একটি ভক্স পপে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরও জানায়, ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির বিক্ষোভের আহ্বানকে তারা ‘ইরানবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রেজা পাহলভি রাতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন বলে জানানো হয়।
এদিকে, উত্তর খোরাসান প্রদেশের এসফারায়েন শহরে সংঘটিত অস্থিরতায় একজন প্রসিকিউটর ও কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি। এ তথ্য প্রাদেশিক বিচার বিভাগের প্রধানের বরাতে প্রচার করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরেও সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা ব্যাপকভাবে সম্পদ ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে।
এরই মধ্যে দেশজুড়ে জারি থাকা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানের বেশির ভাগ সংবাদ ওয়েবসাইট দেশের বাইরে থেকে প্রবেশযোগ্য নয়। আগে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া কিছু সংবাদমাধ্যমের টেলিগ্রাম চ্যানেলও এখন অফলাইনে রয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ আজ শুক্রবার কেবল পূর্বনির্ধারিত পোস্ট প্রকাশ করেছে বলেও জানা গেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।