ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। তবে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনের পর কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আইজেনকটের ক্ষমতার মসনদে বসার পথটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৭ অক্টোবর) রাতে প্রেসিডেন্ট হারজোগের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, আজ রোববার জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে।
মনোনীত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আইজেনকট লেখেন, ‘এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করার সময় এসেছে। আমরা যেন জনগণের এই আস্থার যোগ্য হতে পারি, তার জন্য আমি সবকিছু করব।’
গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে (নেসেট) আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দলীয় পরামর্শকালে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর সমর্থন লাভ করেন আইজেনকট। নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্য পাওয়া এই আরব দলগুলো এখন ক্ষমতার ‘কিংমেকার’ ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। তবে আইজেনকটের জোট শেষ পর্যন্ত তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সামরিক প্রধান (চিফ অব স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আইজেনকট নিজেকে ‘বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ’ করার নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রপন্থী ইহুদিদের বসতি স্থাপনের বিরোধী।
তবে সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের এই নেতা শান্তির পক্ষে খুব একটা উদারপন্থী নন। তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোর বিরোধী এবং গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ও সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেছেন। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় তৈরি ‘দাহিয়া ডকট্রিন’-এর প্রণেতা ছিলেন এই আইজেনকট, যার মূল কৌশলই ছিল প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন বেসামরিক অবকাঠামোতে ভয়াবহ মাত্রায় সামরিক হামলা চালানো।
প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়ার পর আইজেনকট ৬১টি আসনের ন্যূনতম সমর্থন জোগাড় করতে ২৮ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারেন। তা সত্ত্বেও কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে না পারলে ইসরায়েল আবার নতুন নির্বাচনের দিকে হাঁটবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও বারবার সরকার গঠনে অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে পরপর পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান