ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স বা মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাহলে ইরান পুরো অঞ্চলকে তাদের জন্য ‘নরকে পরিণত’ করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ওয়ানার বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট আজ বৃহস্পতিবার তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ করেছে।
মজিদ মুসাভি বলেন, ‘তোমরা কি পবিত্র হরমুজ প্রণালিকে অনিরাপদ করে তুলবে? তাহলে ইরানের সর্বত্র থেকে আমরা পুরো অঞ্চলকে তোমাদের জন্য নরকে পরিণত করব।’ তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ইরান দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে।
মুসাভির এই মন্তব্যের আগে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল-আমবিয়া ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানায়, কোনো জাহাজ যদি প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও প্রণালির ভেতরে ও বাইরে নিয়মিত চলাচল করছে। সেন্টকমের ভাষ্য, ‘বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশ ও প্রস্থান অব্যাহত রেখেছে।’ পরে ইরান সেন্টকমের এই দাবির বিরোধিতা করে।
এদিকে, গতকাল বুধবার রাতে সেন্টকম ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তারা ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সামরিক নজরদারি সক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু করা এসব স্থাপনা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করছিল। এ কারণেই হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।