ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নির্ধারিত ‘লাল দাগ’ অতিক্রম করে, তবে ইরানের পাল্টা জবাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর বিস্তৃতি আরও অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তারা একই ধরনের জবাব দিতে কোনো দ্বিধা করবে না। সংস্থাটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করেছিলেন—ইরান যদি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সম্মত না হয়, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আইআরজিসির বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের এমনভাবে আঘাত হানবো, যাতে তারা এবং তাদের মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বঞ্চিত হয়।’
আইআরজিসি আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা বুঝতে পারছেন না যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতার আওতায় তাদের কত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদি আমাদের অবকাঠামোতে আক্রমণ করা হয়, তবে আমাদের যোদ্ধাদের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু কী হতে পারে, তা তারা সঠিকভাবে হিসাব করতে পারছে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।