গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় যখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে হামাসের আলোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক ভয়াবহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজা সিটিতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও হামাস সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন আজম। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, খলিল আল-হাইয়া এ নিয়ে তাঁর চতুর্থ সন্তানকে ইসরায়েলি হামলায় হারালেন। এর আগে ২০০৮,২০১৪ এবং গত বছর দোহায় ইসরায়েলি হামলায় তাঁর আরও তিন ছেলে নিহত হয়েছিলেন।
অবশ্য, শান্তি আলোচনা ভেস্তে দিতে প্রতিপক্ষের আলোচকদের হত্যার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইসরায়েল বরাবরই এই কাজ করে এসেছে। এর আগে চলমান যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রধান পারমাণবিক আলোচক আলী লারিজানিকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শীর্ষ সহযোগী আলী শামখানিকে হত্যা করে তারা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা বিষয়ক একটি কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবারের হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন হামাস নেতারা কায়রোতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত নিকোলে ম্লাদেনভের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। খলিল আল-হাইয়া আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, ‘এই ধরনের জায়নবাদী হামলা প্রমাণ করে যে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি বা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ মেনে চলতে আগ্রহী নয়। তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে চাইছে।’
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নেতাদের সন্তানদের টার্গেট করে হামাসের আলোচনা দলকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা যাবে না। কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গত অক্টোবরে ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিনিময়ে পুনর্গঠন কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টি এখন আলোচনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রথম ধাপের শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ না করলে তারা পরবর্তী ধাপের আলোচনায় অংশ নেবে না।
বৃহস্পতিবার গাজা সিটির পশ্চিমে একটি পুলিশ পোস্টেও ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। এতে অন্তত তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হামাসের একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শান্তি আলোচনার এই সংকটময় মুহূর্তে খলিল আল-হাইয়ার ছেলের মৃত্যু গাজা উপত্যকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল।