চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে ইরান। তবে কূটনৈতিক আলোচনার এই আবহের মধ্যেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এবং কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে। তেহরান বর্তমানে এই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন এবং তিনি এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
তবে কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও আলোচনার টেবিলে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে ইরান। নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, তাদের আলোচনাকারী দল ‘সামান্যতম আপস, পিছু হটা বা নমনীয়তা প্রদর্শন করবে না।’
বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দল তাদের পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইরানি জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে। এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মূল দাবিগুলোতে তেহরান কোনো নতি স্বীকার করতে রাজি নয়।
তবে একদিকে আলোচনার প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং অন্যদিকে ‘আপস না করার’ প্রকাশ্য ঘোষণা মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের দর–কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোর একটি কৌশল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ চুক্তির দিকে নিয়ে যায় কি না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা