ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। আজ বুধবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতে পারি না এবং তারা ইতিমধ্যে সম্মত হয়েছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না। এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়।’
চলমান সংঘাত ও যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে—এমন ধারণাকে উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুর দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই। তাদের হাতে খুব সামান্য কিছু সেনা রয়েছে এবং তাদের কোনো নেতা নেই, কোনো নেতৃত্বও নেই।
দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্র তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তাদের অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ছে। সেখানে এখন ২৫০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে। একটি দেশের যত ধরনের খারাপ পরিস্থিতি হওয়া সম্ভব, তার সবই এখন তাদের রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির চলমান অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, এই অচলাবস্থা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই সমস্যার সমাধান বেশ দ্রুতই হয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে বড় সাফল্য অর্জন করছে।
ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প জানান, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি এই আলোচনায় যুক্ত আছেন, এটা নিশ্চিত।
সর্বোচ্চ নেতার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অনেকেই বলছে যে, আলোচনার বিষয়ে তিনিই চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছেন। হ্যাঁ, এটা সত্যি। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে এভাবেই চলে আসছে। প্রথমে তাঁর বাবা এবং এখন তিনি। আমি মনে করি, এটি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছেন।’
খামেনির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আপাতত আমাদের মধ্যকার বোঝাপড়া বেশ ভালো বলেই মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তার ওপর ভিত্তি করে হয়তো কোনো একপর্যায়ে আমাদের দেখাও হবে।’