ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে পারান্দ এলাকায় বিরাট কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানি কর্তৃপক্ষ একে নিছক ‘নলখাগড়ার আগুন’ বলে দাবি করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার কাছে এই অগ্নিকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার কারণে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, আজ বুধবার পারান্দ শহরের একজন বাসিন্দা একটি ভিডিও পাঠিয়ে দাবি করেন, সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি পারান্দ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পারান্দ নদীর তীরের বিস্তীর্ণ ঝোপঝাড় ও নলখাগড়ার বনে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট বর্তমানে ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ করছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে তেহরান প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যে এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে, তার কাছেই তেহরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা রয়েছে। পারান্দ শহরটি তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এলাকাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় সাধারণ অগ্নিকাণ্ডকেও অনেকে বড় কোনো হামলা বা নাশকতার অংশ হিসেবে সন্দেহ করছেন।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এক বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে তা গত মাসে ভেনেজুয়েলায় চালানো সুনির্দিষ্ট বা সীমিত হামলার মতো হবে না; বরং এটি হবে কয়েক সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল যুদ্ধ।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী, শত শত যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। যদি পারমাণবিক আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বস (ট্রাম্প) বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। তাঁর আশপাশের কেউ কেউ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করলেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি সামরিক অ্যাকশন দেখার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।’