ওমান সাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টাকালে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারে সরাসরি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে জাহাজটি মাঝসমুদ্রেই বিকল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার (১০ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে ওমান সাগরে ‘এমটি জলবীর’ নামের ওই তেল ট্যাংকারটির ওপর হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজটিকে বারবার দিক পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এর ক্রুরা তা অমান্য করে একটি ইরানি বন্দরের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। এর জের ধরে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে দুটি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত এমটি জলবীর তেল ট্যাংকারটিতে ২০ জন ভারতীয় ক্রু বা নাবিক ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে ধোঁয়া তৈরি হয়। তবে ওমানি কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর দ্রুত উদ্ধার অভিযানের ফলে ২০ জন নাবিক বর্তমানে অক্ষত ও নিরাপদে আছেন। তাঁদের ওমানের শিনাস বন্দরে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি চলতি সপ্তাহে ওমান সাগরে ভারতীয় নাবিকসহ কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার তৃতীয় ঘটনা। এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার যথাক্রমে ‘এমটি মারিভেক্স’ ও ‘এমটি সেত্তেবেলো’ নামে পালাউয়ের পতাকাবাহী দুটি জাহাজকে একইভাবে বিকল করে দেয় মার্কিন বাহিনী। সেত্তেবেলো জাহাজে হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ধারাবাহিক হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সামরিক পরিভাষায় ‘এজিএম-১১৪’ নামে পরিচিত এই হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত মার্কিন সামরিক ড্রোন এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এতে সেমি-অ্যাকটিভ লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
পাইলট বা অপারেটর ককপিটের স্ক্রিন দেখে লক্ষ্যবস্তুর ওপর একটি লেজার রশ্মি তাক করেন এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই লেজার বিন্দুকে অনুসরণ করে আঘাত হানে। প্রায় ৮ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলমান লক্ষ্যবস্তুও নিমেষেই ধ্বংস বা বিকল করে দেওয়া সম্ভব।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জারি করার পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্দেশ অমান্যকারী মোট ৯টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিকল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকম জানিয়েছে, এই অবরোধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নির্দেশনা মেনে চলায় ১৩৫টি জাহাজকে অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা বহনকারী ৪২টি জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান যেন তেল রপ্তানি করে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে না পারে, সেই অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতেই এই নৌ অবরোধ কার্যকর রাখা হচ্ছে।