ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দ্য ন্যাশনাল সহ আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুতিদের হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরের একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে অবস্থানরত সরকারি বাহিনী।
এর আগে গত মাসেও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানায়, তারা বন্দরনগরী হোদেইদাহর দক্ষিণে হুতিদের একটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই লড়াইয়ে উভয় পক্ষের কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
তৎকালীন সংঘর্ষের বিষয়ে ইয়েমেনের প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-কুদাইমি বলেছিলেন, ‘বীরোচিত প্রতিরোধের’ সময় সরকারি বাহিনীর অন্তত ১৫ সদস্য নিহত হন। একই সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সামরিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। ২০২২ সালে একটি সমঝোতা চুক্তির পর হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ কিছুটা কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হুতিরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লোহিত সাগরে সৌদি-সম্পৃক্ত জাহাজ এবং সৌদি তেলের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। তাদের দাবি, হুতি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল, বন্দর এবং সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর সৌদি আরব যে ‘অবরোধ’ আরোপ করেছে, তারই প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা হুতিদের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। রিয়াদের অভিযোগ, হুতিরা বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সংঘর্ষের এই বিস্তার ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধকে আবারও তীব্র করে তুলতে পারে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর শুরু হওয়া সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের কথাও জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হুতি হামলা ঠেকানোই জোটটির মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে রিয়াদ।