দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রামলীলা থেকে মোদিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেছেন, ‘ইন্ডিয়া জোট ভারতের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেবে না। ভোট চুরি করে আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না।’
আজ রোববার রাহুলের নেতৃত্বে আয়োজিত এ জনসভায় অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সভার শুরুতে রাহুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করা ও দেশকে সঠিক পথে ফেরানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
অমিত শাহর দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘তারা বলছে, নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাবেন না। আসলে তাঁকে কোথাও পালাতে দেওয়া হবে না। জ্ঞানেশ কুমারের পর আমরা আপনাদের কাছে আসব। আপনাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনি (মোদি) কোথাও পালাতে পারবেন না।’
জনসভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর দেশের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের প্রতি সাতজনে একজন বা প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে এনডিএ জোট ও বিরোধীদের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল নাম কাটার হিসাব তুলে ধরে রাহুল একে একটি অবৈধ নির্বাচন বলে আখ্যা দেন।
রাহুল বলেন, এটি সাধারণ কোনো দোকান চুরির মতো বিষয় নয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি করা হয়েছে। এমন কাজ রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অভিযুক্ত করে তিনি দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের সহায়তা ছাড়া নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দখল করেছে বলেও অভিযোগ করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেশের সম্পত্তি ও সুযোগ-সুবিধা আম্বানি ও আদানিদের মতো গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ মওকুফ না করে জেলে পাঠানো হলেও শিল্পপতিদের শত শত কোটি টাকার ঋণ মাফ করা হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী জানান, তিনি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ বা জ্ঞানেশ কুমারকে ব্যক্তিগতভাবে ঘৃণা করেন না। বিজেপি বা আরএসএসের কর্মীদের ওপরও বিরোধী দলের কোনো ক্ষোভ নেই বলে জানান তিনি। তবে তিনি বলেন, ‘বিজেপি ও আরএসএস দেশে যে ঘৃণার রাজনীতি ছড়িয়েছে, তা দেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। আমার কাছে জনগণের অধিকারই হলো প্রকৃত ধর্ম।’
তথ্যসূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস