অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা এমপি রাঘব চাড্ডা ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিচ্ছেন। তবে তিনি একা নন, সঙ্গে নিচ্ছেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার বড় একটি অংশের এমপিদেরও। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও রাজ্যসভা এমপি হরভজন সিংও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দলপ্রধান কেজরিওয়ালের জন্য সরাসরি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেজরিওয়াল কয়েক সপ্তাহ আগেই চাড্ডাকে পদাবনতি দিয়েছিলেন।
আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাজ্যসভায় থাকা আম আদমির ১০ জন এমপির মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিজেপিতে মিশে যাবে। দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি নিয়ে দিল্লিতে ক্ষমতায় আসা দলটি এখন সৎ রাজনীতি থেকে সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত (বিজেপিতে মিশে যাওয়ার) সই করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছি।’
এদিকে এএপি অভিযোগ করেছে, চাড্ডা দলের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কেজরিওয়াল বিজেপিকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ‘তারা পাঞ্জাবিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
এই দলবদল ভারতের দলত্যাগবিরোধী আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, আইন অনুযায়ী কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতা একসঙ্গে অন্য দলে মিশে গেলে তা বৈধ। চাড্ডা জানান, হরভজন সিং ও স্বাতি মালিওয়ালসহ আরও কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি আরও যাঁদের নাম উল্লেখ করেন, তাঁরা হলেন রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহনি, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক।
৩৭ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ‘এই আম আদমি পার্টির জন্য আমি জীবনের ১৫ বছর দিয়েছি। কিন্তু এখন দলটি সৎ রাজনীতি থেকে সরে গেছে। আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ। তাই আমি দল ছেড়ে মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছি। আজকের এএপি দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী।’
এই বড় প্রস্থানের পর আম আদমি পার্টির রাজ্যসভায় যে তিনজন সংসদ সদস্য থাকছেন, তাঁরা হলেন সন্ত বালবীর সিং সিচেওয়াল, সঞ্জয় সিং এবং এনডি গুপ্তা।
সূত্র বলছে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও করা হতে পারে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কেজরিওয়ালের সঙ্গে ছিলেন চাড্ডা। কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ঢেউয়ে দিল্লিতে ক্ষমতায় আসে দলটি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চাড্ডা বলেন, ‘আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আমরা প্রতিশ্রুতি নিয়ে পাঞ্জাব, দিল্লি ও অন্যান্য জায়গায় দল গড়েছি। কিন্তু আজ এএপি আর আগের মতো নেই। দলটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী। আমি এএপির ভুল কাজে জড়াতে চাই না।’
চাড্ডা আরও বলেন, তাঁর সামনে দুটি পথ ছিল—রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া অথবা সঠিক কাজ করা। তিনি দ্বিতীয়টিই বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা, রাজ্যসভায় থাকা এএপির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য, বিজেপিতে মিশে যাচ্ছি।’ চাড্ডার পাশে সংবাদ সম্মেলনে থাকা সন্দীপ পাঠক জানান, ছয়-সাত মাস ধরে তিনি দল ছাড়ার কথা ভাবছিলেন।
চাড্ডার বক্তব্যের কয়েক মিনিট পরই আম আদমি পার্টি সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজ্যসভার এমপি সঞ্জয় সিং বলেন, ‘দল চাড্ডাকে এমপি বানিয়েছিল, কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত বিজেপির কোলে গিয়ে বসেছেন।’
সঞ্জয় সিং আরও বলেন, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন আম আদমির সরকারের ভালো কাজগুলোতে বাধা দিয়েছে বিজেপি। তাঁর ভাষায়, ‘আম আদমি পার্টির সাতজন রাজ্যসভার এমপি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। পাঞ্জাবের মানুষ এই সাতটি নাম মনে রাখবে। তারা কখনোই তাঁদের ভুলবে না।’
কেজরিওয়াল এক লাইনের পোস্টে লেখেন, ‘বিজেপি আবারও পাঞ্জাবিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
চাড্ডার এই দলবদল হঠাৎ কিছু নয়। এর পেছনে ছিল সাম্প্রতিক এক বড় বিতর্ক। চলতি মাসের শুরুতে দল তাঁকে রাজ্যসভায় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর দলটি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করে, চাড্ডাকে যেন দলের কোটা থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় না দেওয়া হয়। আম আদমির অভিযোগ, পার্লামেন্টে ওয়াকআউটের সময় বিরোধীদের সঙ্গে না থাকা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবে সই করতে অস্বীকার করা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তুচ্ছ বিষয় উত্থাপন—এসব কারণে তিনি ভীত হয়ে পড়েছেন।