পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ নেওয়া প্রথম পাঁচজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। আজ সোমবার নবান্নে নবগঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই দপ্তরগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ৯ মে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, অগ্নিমিত্রা পাল এবং নিশীথ প্রামাণিক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
বিজেপির নীতি নির্ধারকদের মতে, প্রথম দফার এই দপ্তর বণ্টনে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সামাজিক প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও খড়গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। পঞ্চায়েতের শাসনব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবাদিপশু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা ও বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়াকে রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা সচল রাখা, খাদ্য বণ্টন এবং কল্যাণমূলক খাদ্য প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে তাঁর দপ্তরের প্রধান কাজ।
রানিবাঁধ জঙ্গলমহলের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রণায়ের দায়িত্ব। পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে তাঁর মন্ত্রণালয়।
আসানসোল উত্তরের বিধায়ক ও বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নারী মুখ অগ্নিমিত্রা পালকে দেওয়া হয়েছে মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন সরকারের নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ও নারীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দপ্তরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাথাভাঙ্গার বিধায়ক ও সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রণালয়। উত্তরবঙ্গে বিজেপির যে শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে, তা আরও মজবুত করতে এবং ওই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দপ্তরটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত, আজ সোমবার নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতায় এসেই পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বেশ কিছু নীতি বাতিল করার পাশাপাশি নিজস্ব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
রাজ্যজুড়ে অবিলম্বে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মোদী সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রীয় সামাজিক সুরক্ষামূলক স্কিমগুলোও চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা কোনো সামাজিক প্রকল্প (যেমন; লক্ষ্মীর ভান্ডার বা অন্যান্য সুবিধা) বন্ধ করা হবে না। তবে তিনি একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা বর্তমান রাজ্য প্রকল্পগুলোর কোনোটিই বন্ধ করব না। তবে এই দেশের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সুযোগ-সুবিধাগুলো যাতে কোনো মৃত ব্যক্তি কিংবা অনুপ্রবেশকারীরা না পায়, তাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল সরকার যে নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে গড়িমসি করছিল, তা এবার রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ করা হবে।
১৫ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৮০টি আসনে।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া