ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্ব’ ও ‘আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। আজ বুধবার সংসদের নিম্নকক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনারা ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। আপনারা আমাদের দেশমাতৃকাকে বিক্রি করতে লজ্জা পেলেন না?’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা ধ্বংসের মুখে পড়বেন। এই চুক্তির ফলে ভারতের বস্ত্রশিল্প বা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি পুরোপুরি ‘শেষ’ হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান একটি মামলা থেকে বিজেপির আর্থিক কাঠামো রক্ষা করতেই প্রধানমন্ত্রী এই ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন রাহুল।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘যদি ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় থাকত, তবে আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলতাম ভারতকে সমান মর্যাদায় দেখতে। কিন্তু মোদিজি ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ভারতীয়র ভবিষ্যৎ তুলে দিয়েছেন আমেরিকার হাতে।’
এদিকে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর বিজেপিও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁর বক্তৃতার পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু পাল্টা সমালোচনা করে বলেন, ভারতকে কেউ বিক্রি করতে পারে না। কংগ্রেসই বরং দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ভারত এগিয়ে যাচ্ছে বলেই কংগ্রেসের মনে দুঃখ।
বিজেপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাহুল গান্ধী লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতার পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন এবং তাঁর ভাষা ও ভঙ্গি অত্যন্ত নিম্নমানের। সংসদীয় শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তিনি ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন বলেও দাবি করে ক্ষমতাসীন দল।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি, যার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই চুক্তিকেই ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ বলে দাবি করছে বিরোধী দলগুলো।