ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার মিরা রোডের পুনম ক্লাস্টার নামে একটি আবাসিক এলাকায় কোরবানির ছাগল রাখাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই উত্তেজনার জেরে শূকর নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় হিন্দুরা।
ঈদের ঠিক আগে দুই দিন ধরে চলা এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বর্তমানে ২০০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ওই আবাসন প্রকল্প ও এর আশপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের জমায়েত এবং স্লোগান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, গত রোববার মিরা রোডের পুনম ক্লাস্টার এলাকায় এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। আবাসিক এলাকার ভেতরে কোরবানির ছাগল রাখার জন্য একটি অস্থায়ী শেড বা চালা তৈরি করা হলে কিছু হিন্দু সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাতে আপত্তি জানায়।
প্রতিবাদের মুখে সেই অস্থায়ী শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। তবে সোমবার এই ঘটনার প্রতিবাদে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে। তাঁরা কাশিমিরো থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও ওই দিন রাতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এরপর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের চারটি গাড়িতে করে ওই আবাসন প্রকল্প থেকে ৫১টি ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন হিন্দু বাসিন্দারা আবাসিক এলাকার গেটে জড়ো হন। তাঁরা নানা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে থাকেন। একপর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কর্মীরা সেখানে পৌঁছান। ছাগলগুলোকে আবার ওই আবাসিক এলাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে। কোরবানির ছাগল আনার প্রতিবাদে কিছু বিক্ষোভকারী আবাসিক এলাকার ভেতরে একটি শূকর নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে শূকরছানাটি ছিনিয়ে নিচ্ছে। পরে আবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের হাত থেকে শূকরছানাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা সেটিকে কোলে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মাঝখান থেকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, ছাগল রাখার প্রতিবাদ হিসেবে তাঁরা সেখানে ‘বরাহপূজা’ করতে শূকরটি এনেছিলেন।
প্রসঙ্গত, সনাতন ধর্মে ‘বরাহপূজা’ মূলত পালন করা হয় ভগবান বিষ্ণুর বরাহ অবতারের জন্মবার্ষিকী বা বরাহ জয়ন্তীতে। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর এই পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।