ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আজ শুক্রবার সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার আগামীকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে সিজেপির আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরকার আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার তাঁকে দ্রুত সরিয়ে দেবে। এ ছাড়া আত্মহননকারী নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর ও মামলা প্রত্যাহারে সরকার রাজি হয়েছে।’
এর আগে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া ও পরীক্ষার অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দুটি শর্ত সরকার মেনে নেওয়ার পরই সিজেপি আলোচনায় বসতে রাজি হয়।
বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলেছে। সিজেপির প্রধান তিনটি দাবি ও পরীক্ষার বিষয়ে পাঁচটি সংস্কারমূলক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের ভেতরে আলোচনা করে আগামীকাল দুপুরের বৈঠকে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সরকারের আশ্বাসের পর ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক জানান, ইতিপূর্বে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিক নথির দাবিতে তাঁর অনশন শেষ করতে দুই দিন দেরি হয়েছিল। এ ছাড়া বৈঠকের আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও জানিয়ে দিয়েছিলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে তাঁরা সন্তুষ্ট হবেন না।
গত সোমবার (২০ জুলাই) দুই পক্ষের মধ্যে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় সিজেপির মুখপাত্ররা জে পি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠক করেছিলেন। পরে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, ওই বৈঠকে তাঁদের কার্যত নজরবন্দী করে রাখা হয়েছিল এবং এরপরই তাঁরা একটি নিরপেক্ষ স্থানে ভবিষ্যৎ আলোচনার দাবি জানান।
এদিকে গতকাল গভীর রাতে এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্যও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ছাত্রদের বিক্ষোভ প্রশমিত করার অংশ হিসেবে শিক্ষাসচিব বিনীত জোশিকে পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছে কেন্দ্র সরকার এবং স্কুল ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় (নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সিবিএসই বোর্ডের খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।