তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। তাঁর পক্ষে বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় ১১৮ জন এমএলএর সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টায় তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজয়। তবে রাজভবন থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সময় নিশ্চিত করা হয়নি।
সম্প্রতি সমাপ্ত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৭টিতে জয়লাভ করে একক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর মাধ্যমে দলটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ৬২ বছরের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিতে সক্ষম হয়।
তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা (১১৮) থেকে ১১টি আসন দূরে ছিল টিভিকে। গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেও প্রমাণের অভাবে সরকার গঠনের সবুজসংকেত পাননি বিজয়। রাজ্যপাল জানিয়ে দেন, সশরীরে বা স্বাক্ষরসহ ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন ছাড়া তিনি কাউকে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ জানাবেন না।
এই অচলাবস্থা কাটাতে বিজয় অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা শুরু করেন। পাঁচজন বিধায়ক নিয়ে সবার আগে বিজয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দেয় কংগ্রেস। তাদের শর্ত ছিল—বিজয় যেন কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’র (বিজেপি) সঙ্গে জোট না গড়েন।
আজ দুপুরে দফায় দফায় বৈঠকের পর দুই বামপন্থী দল সিপিআই দুটি, সিপিআই (মার্ক্সবাদী) দুটি ও দলিতভিত্তিক দল ভিসিকে দুটি আসন দিয়ে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ছাড়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থন এবং টি টি ভি দিনাকরণের এএমএমকের এক বিধায়কের সমর্থনও বিজয়ের পক্ষে গেছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে বিজয়ের ঝুলিতে এখন ঠিক ১১৮টি আসন রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’।
কংগ্রেসের সমর্থন দেওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল নতুন সরকারে অংশীদারত্ব। জানা গেছে, সমর্থনের বিনিময়ে নতুন মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদ পেতে পারে কংগ্রেস। অন্যদিকে, বামপন্থী দল দুটি (সিপিআই ও সিপিআই-এম) জানিয়েছে, তারা বিজয়ের সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে, মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না।
এদিকে রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মধ্যে একধরনের গোপন সমঝোতার গুঞ্জন ছড়ায়। দল দুটির রাজনৈতিক আদর্শ এক হলেও দীর্ঘকাল ধরে তারা একে অপরের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী। বিজয়ের মতো নতুন শক্তির উত্থানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই দুই চিরশত্রু এক হওয়ার কথা ভাবছিল। তবে দুই শিবিরের আদর্শগত বিরোধিতার কারণে এই ‘অস্বাভাবিক’ জোটের গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত গুঞ্জন হিসেবেই থেকে গেছে, বাস্তবে রূপ নেয়নি।
তামিলনাড়ুর এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার পেছনে রাজ্যপালকে ব্যবহারের যে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে উঠেছিল, তা খণ্ডন করেছে দলটি। তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি বলেন, এটি একটি ত্রিশঙ্কু রায় ছিল। বিজয়ের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। এখন যদি তিনি তা প্রমাণ করতে পারেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে তা মেনে নেবেন। এখানে কোনো ধোঁয়াশা বা বিজেপির চাপের বিষয় নেই। সবকিছু গণতান্ত্রিক নিয়মেই হচ্ছে।