হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

আত্মহত্যা-সংকটে ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। ছবি: এএফপি

ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক নজিরবিহীন আত্মহত্যা-সংকট দেখা দিয়েছে। গত অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে (এসপিএম) দুই কর্মকর্তার আত্মহত্যা, দুজনের আত্মহত্যার চেষ্টা ও একজনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় কর্মপরিবেশে তীব্র মানসিক নির্যাতন ও বুলিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস।

প্যারিস প্রসিকিউটরের দপ্তর ‘মানসিক নিপীড়নের’ অভিযোগ এনে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। এসপিএম বা সার্ভিসেস অব দ্য প্রাইম মিনিস্টার মূলত ৩ হাজার ৫০০ জন কর্মী ও ৫০টি বিভাগ নিয়ে গঠিত, যা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে। তবে ভুক্তভোগীদের কেউ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরাসরি কর্মরত ছিলেন না।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সামগ্রিক ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। সে সময় লরা নামের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে এক পথচারীর তৎপরতায় সেবার তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ৩০ বছরের ক্যারিয়ারভিত্তিক এই কর্মকর্তা পরে কর্মস্থলে মানসিক নির্যাতন ও জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ এনে আইনি পদক্ষেপ নেন। তাঁর আইনজীবী ক্রিস্টেল মাজ্জা জানান, অফিসে লরাকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল এবং তীব্র অপমান সহ্য করতে হয়েছে। তাঁকে সভাগুলোতে ডাকা হতো না, এমনকি সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো থেকেও তাঁর নাম সরিয়ে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়।

লরার ঘটনার আগে ও পরে এসপিএমে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বছরের অক্টোবরে প্রশাসনিক তথ্য বিভাগে এক নারী কর্মী অফিসে ছুরির সাহায্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। চলতি বছরের মার্চে সাধারণ বিনিয়োগ সচিবালয়ের এক প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। এর আগে একটি ক্ষুদ্র চুরির অভিযোগ নিয়ে বসের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়েছিল। মার্চ মাসেই লরার পরিচিত ৫৯ বছর বয়সী কর্মকর্তা ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ দেন। সে সময় দপ্তরটিতে কর্মী ছাঁটাই চলছিল। এ ছাড়া গত এপ্রিলে পাবলিক ট্রান্সফরমেশন ডিরেক্টরেটের এক তরুণ কর্মকর্তার মরদেহ সরকারি অফিসের শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমলে ফরাসি রাজনীতিতে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; গত দুই বছরে চারজন নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রতি চার বা ছয় মাস পর পর নতুন চিফ অব স্টাফ এসে সম্পূর্ণ সেটআপ পরিবর্তন করেন, যা স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের চরম মানসিক চাপে ফেলে দেয়। অনেক বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীর মতে, রাজনৈতিক রদবদলের কারণে দপ্তরের অভ্যন্তরে অসম প্রতিযোগিতা এবং এক সহকর্মী কর্তৃক অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

প্রশাসনিক ও আর্থিক সেবা অধিদপ্তর এসব মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করলেও কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, লরা নিজেই এক কর্মীকে হয়রানির অভিযোগে বরখাস্ত ও শৃঙ্খলাভঙ্গের মুখে ছিলেন। এ ছাড়া অক্টোবরের আত্মহত্যার চেষ্টাকে চিকিৎসা কমিটি কর্মক্ষেত্রজনিত কারণ হিসেবে বাতিল করেছে। বর্তমানে দুটি পৃথক আত্মহত্যার ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।

দাবানলে বেরিয়ে এল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শত শত গোলাবারুদ

এক দিনের জন্য স্বাধীন রাজ্য হলো এস্তোনিয়ার একটি গ্রাম

রাশিয়ার সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ১১

শীর্ষ শান্তি আলোচক উমেরভকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান করলেন জেলেনস্কি

স্পেনের সেউতায় অভিবাসীদের ঢলে নিহত বেড়ে ৭২

স্যুটকেসে ব্রিটিশ নারীর মরদেহ, গ্রিসে আফগান যুবক আটক

রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের আরও এক গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

যে কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ইউরোপের দাবানল

‘ভাড়াটে খুনি’ হিসেবে কিশোরদের ব্যবহারের অভিনব নেটওয়ার্ক ইউরোপে

মস্কোয় রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩