হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো—বোর্ড অব পিস সনদে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সনদ স্বাক্ষর শেষে ট্রাম্প হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন। ছবি: এপির সৌজন্যে

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ।

শান্তি পরিষদের সনদ স্বাক্ষরের মূল পর্বে ট্রাম্পের পাশে এসে যোগ দেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ট্রাম্পের কট্টর মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুই নেতা দলিলে সই করার পর করমর্দন করেন এবং ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে পোজ দেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্য থেকে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কাতার ও আজারবাইজান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। ইউরোপের নবগঠিত রাষ্ট্র কসোভোও এই সনদে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ট্রাম্পের এই নতুন বৈশ্বিক জোটের প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

সনদটি স্বাক্ষরের পরপরই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিইএফ) পক্ষ থেকে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সনদ স্বাক্ষর শেষে ট্রাম্প হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি সত্যিই এখানে এসে এটি করতে চেয়েছিলাম এবং এর জন্য দাভোসের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইতিমধ্যে আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছেন এবং শিগগিরই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান হতে যাচ্ছে।

ট্রাম্প তাঁর ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে সবচেয়ে ‘কঠিন’ চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত মাসে এই যুদ্ধে ২৯ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশ সেনা) প্রাণ হারিয়েছেন, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। শান্তি আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে শান্তি ফিরে আসবে।’ এ ছাড়া গাজা প্রসঙ্গে তিনি হামাসের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের হাতে থাকা শেষ মৃত জিম্মিকেও ইসরায়েলের কাছে ফেরত দিতে হবে।

শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে। যদিও এই বোর্ডকে জাতিসংঘের ‘বিকল্প’ হিসেবে অনেকে দেখছেন, তবে ট্রাম্প একে একটি ‘পরিপূরক’ এবং ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, সাধারণত তাঁর দু-তিনজন নেতাকে অপছন্দ হয়, কিন্তু এই বোর্ডে থাকা প্রতিটি নেতাকেই তাঁর পছন্দ।

তবে ট্রাম্প এই বোর্ডকে বিশ্ব শান্তির মডেল হিসেবে তুলে ধরলেও ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এখন পর্যন্ত এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স, নরওয়ে ও সুইডেন প্রকাশ্যে এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জাতিসংঘের ভূমিকা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, আল-জাজিরা

‘বসনিয়ার কসাই’ ম্লাদিচের মুক্তির আবেদন, বিবেচনা করছেন জাতিসংঘ আদালত

ড্রোন দিয়ে রুশ ঘাঁটিতে কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইউক্রেনের

আকাশে শক্তি দেখাচ্ছে ইউক্রেন—বিব্রত, বিরক্ত রাশিয়া

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

লন্ডনে দুই ইহুদিকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত

চুরি করা ইউক্রেনের শস্য ইসরায়েলের কেনা অবৈধ: জেলেনস্কি

যুক্তরাষ্ট্রকে অপদস্থ করেছে ইরান: জার্মান চ্যান্সেলর

ইরান ও ওই অঞ্চলের দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সবকিছু করবে: পুতিন

যুদ্ধকে রাশিয়ার ভেতরে পাঠিয়ে দিতে চান ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডার

ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে ‘ডনিল্যান্ড’ তৈরির প্রস্তাব ইউক্রেনীয়দের