বসনিয়া যুদ্ধের সময় সারায়েভো অবরোধকে ঘিরে এক শিহরণ জাগানো অভিযোগ সামনে এনেছে নতুন একটি বই। এতে দাবি করা হয়েছে—ধনী বিদেশি অস্ত্রপ্রেমীরা ‘মানব সাফারি’ নামে বিকৃত এক বিনোদনে অংশ নিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করতেন। বিশেষ করে, তারা নারীদের হত্যা করতেন এবং কে সবচেয়ে বেশি ‘সুন্দর নারী’ হত্যা করতে পারে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন।
ক্রোয়েশিয়ার সাংবাদিক ডোমাগোই মারগেটিচের লেখা ‘পে অ্যান্ড শুট’ বইতে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে বসনিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তা নেদজাদ উগলিয়েনের দেওয়া নথির উদ্ধৃতি রয়েছে। উগলিয়েন ১৯৯৬ সালে নিহত হন। তাঁর নথিতে উল্লেখ আছে, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে বিদেশি শিকারিরা সার্বীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে এই ‘সাফারি’ তথা মানুষ হত্যায় অংশ নিতেন।
বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে—মধ্যবয়সী নারীদের গুলি করে হত্যার জন্য প্রায় ৮০ হাজার ডয়েচমার্ক (তৎকালীন প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) নেওয়া হতো। তরুণীদের ক্ষেত্রে এই অর্থ বেড়ে দাঁড়াত ৯৫ হাজার মার্ক এবং গর্ভবতী নারীদের হত্যার জন্য নেওয়া হতো ১ লাখ ১০ হাজার মার্ক পর্যন্ত।
উগলিয়েনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিদেশির মধ্যে একজন ইউরোপীয় রাজপরিবারের সদস্যও থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হয়। তিনি হেলিকপ্টারে করে এসে সারায়েভোর কাছে ভোগোশ্চায় অবস্থান করতেন এবং শিশুদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে আগ্রহী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মারগেটিচ দাবি করেন, এই ‘মানব সাফারি’র ধারণাটি সার্বিয়ায় নয়, বরং ক্রোয়েশিয়ায় উদ্ভূত হয়েছিল। এতে যুগোস্লাভ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা ছিল এবং বিদেশিদের অংশগ্রহণ থাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি পরিচালনা করত।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সারায়েভো অবরোধে স্নাইপার হামলা ও গোলাবর্ষণে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। গত বছর ইতালিতে শুরু হওয়া তদন্তে দাবি করা হয়, ধনী পর্যটকেরা বিপুল অর্থ দিয়ে এই ধরনের হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছিলেন। একাধিক পশ্চিমা দেশের নাগরিক এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই তদন্তের অংশ হিসেবে ৮০ বছর বয়সী এক সাবেক ট্রাকচালককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার একাধিক অভিযোগ আনা হলেও তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।