হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলাকারী ড্রোন রুশ প্রযুক্তির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: দ্য টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো একটি কামিকাজে ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি সামরিক প্রযুক্তি পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অঞ্চলটিতে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ১ মার্চ সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ‘আরএএফ অ্যাক্রোটিরি’-তে আঘাত হানে একটি ড্রোন। হামলার পর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে দেখা যায়, এতে রাশিয়ায় তৈরি কমেটা-বি নামের একটি নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তিটি গত ডিসেম্বরে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যে ড্রোনগুলো ভূপাতিত করেছিল, সেগুলোর মধ্যেও দেখা গিয়েছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দারা উদ্ধার করা যন্ত্রাংশ যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণাগারে পাঠিয়েছেন। যেখানে এগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, লেবাননে সক্রিয় ইরানপন্থী সংগঠন হিজবুল্লাহ এই হামলার সঙ্গে জড়িত।

এই আবিষ্কারকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে রুশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রথম প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল—রাশিয়া ইরানকে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের বিষয়ে গোপনে তথ্য দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কেলিন গতকাল শনিবার বলেছিলেন, চলমান সংঘাতে তাঁর দেশ নিরপেক্ষ নয় এবং রাশিয়ার অবস্থান ইরানের প্রতি সমর্থনমূলক।

এদিকে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন বলেছেন, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে—এ বিষয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার সহযোগিতা ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াচ্ছে এবং এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নাইটন আরও নিশ্চিত করেছেন, সাইপ্রাসের ঘাঁটিতে হামলাটি লেবানন থেকে একটি ইরানপন্থী গোষ্ঠী চালিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, এর পেছনে হিজবুল্লাহর জঙ্গিরাই থাকতে পারে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ‘এইচএমএস ড্রাগন’-এর শিগগির সাইপ্রাসের দিকে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবাহী রণতরি ‘এইচএমএস প্রিন্স ওব ওয়ালেস’-কে দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারকে বিরোধীরা ধীরগতির প্রতিক্রিয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনোচ বলেছেন, সরকার সংঘাতের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিশ্চিত মৃত্যু নেমে আসতে পারে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে রুশ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলটিতে বৃহত্তর শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কঙ্গোফেরত চিকিৎসকের মাধ্যমে ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছে ইবোলা

বৈশ্বিক সংঘাত ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রই একমাত্র ভরসা: রাশিয়া

ফরাসি নারীকে পাকিস্তানে ১২ বছর বন্দী করে রেখেছিলেন স্বামী

ইউক্রেনে ‘ডাইনি বাহিনী’র হানি ট্র্যাপে কুপোকাত রুশ সেনারা

এমন উত্তাপ আগে দেখেনি ইউরোপ, লাল সতর্কতা দেশে দেশে

স্টারমারের পদত্যাগের পরপরই শপথ নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, তিনিই কি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

বিষাক্ত মাশরুমে পুতিনের গোপন প্রেম ফাঁস করা সাংবাদিকের মৃত্যু

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

স্টারমার কেন পদত্যাগ করছেন

রুশদের হাতে শেষ ঘাঁটি হারানোর পথে ইউক্রেন, অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে যোদ্ধারা