একটু রোমান্টিক অনুভূতি আর আবেগীয় সাহচর্যের খোঁজে অভিনব এক ট্রেন্ডে ঝুঁকছেন চীনের তরুণীরা। সুঠাম দেহের তরুণ মডেলদের অর্থ দিয়ে ভাড়া করে তাঁদের সঙ্গে তুলছেন রোমান্টিক এবং প্রেমিকের অবয়বে কৃত্রিম ছবি। চীনের মূলধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলা এই ট্রেন্ডের পেছনে প্রতি ঘণ্টার সেশনের জন্য তরুণীরা খরচ করছেন সর্বোচ্চ ৮ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১,২০০ মার্কিন ডলার)।
এই বিশেষ ফটোশুটগুলোতে হ্যান্ডশেক, আলিঙ্গন, গালে বা কপালে চুমুর ভঙ্গি কিংবা মডেলের সুঠাম দেহ স্পর্শ করার মতো ঘনিষ্ঠ পোজ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
গত জুলাই মাসে চীনের জনপ্রিয় লাইফস্টাইল ব্লগার শুয়ে ডিংগে দুজন পুরুষ মডেলের সঙ্গে মাত্র ৩০ মিনিটের একটি রোমান্টিক ফটোশুটের জন্য ৪,৫২০ ইউয়ান খরচ করেন। স্টুডিওর ভেতরে তাঁদের দিয়ে নানা ঘনিষ্ঠ পোজের ছবি তোলেন চিত্রগ্রাহক। অভিজ্ঞতাটি অনলাইনে শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘নারী-কেন্দ্রিক সেবার যুগে সবাইকে স্বাগতম।’
একইভাবে চীনের চেংদু শহরের বাসিন্দা ওয়েনজি ৩,০০০ ইউয়ান খরচ করে এক কৃত্রিম ভালোবাসার গল্প সাজিয়ে ফটোশুট করেন। গল্পে দেখানো হয়—প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর কান্নাকাটি করে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেমিক। ওয়েনজি বলেন, ‘মডেল আমার কাছে সুন্দর ছবি তৈরির একটি মাধ্যম মাত্র। ছবি তোলা মানে যেন একটি স্বপ্ন বুনে নেওয়া। আমি মূলত হৃৎস্পন্দন বাড়ানো সেই দৃশ্যটির জন্যই অর্থ খরচ করেছি।’
অনেক গ্রাহকের মতে, এটি তাঁদের সাময়িকভাবে রোমান্সের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিচ্ছে। আবার অনেকেই পরিবার থেকে বিয়ের চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখাতে কিংবা একক জীবনের ফ্যান্টাসি পূরণে এমন ফটোশুট করছেন।
চীনের নানজিং শহরের ‘মু ঝাও স্টুডিও’ দাবি করেছে, তারা দেশে প্রথম পুরুষ মডেলদের নিয়ে এই ‘কাপল-স্টাইল’ ফটোশুট ব্যবসা শুরু করে। স্টুডিওটির প্যাকেজগুলোর দাম ৭,২০০ ইউয়ান (৯টি এডিটেড ছবি) থেকে শুরু করে ২৮,০০০ ইউয়ান। এই প্যাকেজের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ১২০টি ছবি এবং প্রয়োজনে পোশাক বদলের সুযোগ থাকে।
মডেল হিসেবে সাধারণত পেশাদার কমার্শিয়াল মডেল অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নেওয়া হয়। তাঁদের উচ্চতা, রূপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী এবং অভিনয়ের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়।
স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা মু ঝাও জানান, ঘনিষ্ঠ পোজগুলো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও পেশাদার সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। গ্রাহকেরা যাতে কোনোভাবেই মডেলদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের নম্বর বা তথ্য আদান-প্রদান করতে না পারেন, সে বিষয়েও খেয়াল রাখা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে। এক দল নেটিজেন এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে মন্তব্য করেছেন, নিজের টাকায় নিজের আনন্দ খুঁজে নেওয়াটাই আসল উপভোগ। যাঁদের প্রেমিক নেই, এটি তাঁদের ফ্যান্টাসি পূরণ করছে।
অন্যদিকে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ছবি তুলতে এত টাকা কেন দেব? তারা তো আমার বন্ধু বা তারকাও নয়।
আরেক দল মন্তব্য করেছেন, এটিকে শুধু ‘নারী-কেন্দ্রিক সেবা’ বলা ভুল। কারণ এখানে নারীরা টাকা দিয়ে সাজগোজ করে ছবি তুলছেন আর পুরুষ মডেলরা সুবিধা পাচ্ছেন।
তবে স্টুডিও প্রতিষ্ঠাতা মু ঝাওয়ের মতে, চীনের নারীরা এখন নিজেদের রূপ, ইচ্ছা এবং আবেগীয় চাহিদার কথা প্রকাশ্যে বলতে দ্বিধা করছেন না। নিজের খুশির জন্য অর্থ খরচ করাকে তিনি নারীদের আত্মবিশ্বাসেরই প্রতীক মনে করছেন।
ছবি: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট