হোম > বিশ্ব > এশিয়া

এশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি উদ্বেগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন। ছবি: নিক্কেই এশিয়া

ইরানে ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় অনেক জ্বালানি ও রাসায়নিক কোম্পানি এখন ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ধারা প্রয়োগ করছে। ফোর্স ম্যাজেউর হলো একটি আইনি ধারণা বা চুক্তির ধারা। এর ফলে অস্বাভাবিক বা জরুরি পরিস্থিতির কারণে কোনো কোম্পানি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলেও দায়মুক্তি পেতে পারে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এশিয়ার জ্বালানি বাজারে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং মৌলিক রাসায়নিক পণ্যের সরবরাহ নিয়ে। শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি গৃহস্থালি রান্না, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনের জ্বালানি হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এলপিজি। ফলে এর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি ‘চন্দ্র আসরি প্যাসিফিক’ গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, তারাও ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় ন্যাফথার মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা কারখানার উৎপাদন হার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার বানতেন প্রদেশের সিলেগনে অবস্থিত কোম্পানিটির প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে ইথিলিন, প্রোপিলিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য তৈরি হয়। এসব পণ্য জাপানি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে থাকে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলে গাড়িশিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

ভিয়েতনামেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি ‘পেট্রভিয়েতনাম গ্যাস’ কিছু গ্রাহকের জন্য এলপিজি সরবরাহে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পিভিজি-এজ ট্রেডিং’ জানিয়েছে, ১০ মার্চ থেকে তারা এলপিজি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে।

এ ঘোষণার পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হলো গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘সৌদি আরামকো’ পরিচালিত একটি বন্দর স্থাপনায় দুর্ঘটনা, আর অন্যটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি সরবরাহ মার্চের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। দেশটির বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রনেট এলএনজি’ জানিয়েছে, কাতার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে কিছু ভারতীয় বিতরণকারী শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিতে শুরু করেছে—যা ইস্পাত, ধাতু, রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানিসংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে। মিয়ানমারের সামরিক সরকার ঘোষণা দিয়েছে, পেট্রলচালিত যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করা হবে। শনিবার (৭ মার্চ) থেকে প্রত্যেকটি গাড়ি তাদের নম্বরপ্লেট অনুযায়ী এক দিন পরপর চলতে পারবে। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রতিদিন চলতে পারবে।

এদিকে থাইল্যান্ড সরকারও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে—বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে মানুষ জ্বালানি মজুত করতে ভিড় করায় স্থানীয়ভাবে সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, দেশের তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। জনসাধারণের উদ্বেগ কমাতে তিনি ডিজেলের দাম অন্তত ১৫ দিন স্থিতিশীল রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন।

থাইল্যান্ডের রাষ্ট্র-সমর্থিত জ্বালানি বিক্রেতা ‘পিটিটি ওয়েল অ্যান্ড রিটেইল বিজনেস’ জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে ২০০ লিটারের ড্রামসহ বড় কনটেইনারে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখবে। কোম্পানিটির মতে, জ্বালানির ঘাটতির কারণে নয়, বরং নিয়মিত যানবাহনের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেপালের নির্বাচন: জেন-জি আন্দোলনের নেতার হাত ধরে বাজিমাতের পথে ৪ বছর বয়সী দল

নেপালের নির্বাচন: এগিয়ে বালেন শাহর দল, পাত্তা পাচ্ছেন না ওলি

নেপালে জেন-বিপ্লবের পর প্রথম ভোট আজ: রাজনীতির ময়দান দখলে পুরোনো বনাম নতুনের লড়াই

মার্কিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজের অন্তত ৮০ আরোহী নিহত: শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার অদূরে ১৮০ আরোহী নিয়ে ডুবে গেছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন হামলার আশঙ্কা

পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে উদ্বাস্তু হাজারো আফগান

টানা ১০ম বছরের মতো নিম্নমুখী জাপানের জন্মহার

জালিয়াতির সাজা বাতিল হলো জিমি লাইয়ের

নেপালে জেন-জি অভ্যুত্থানের ধাক্কা: আসন্ন নির্বাচনে লড়ছেন না সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী

চীন না পারলেও যেভাবে পারল দক্ষিণ কোরিয়া