হোম > বিশ্ব > এশিয়া

ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পরও ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম’ দাবিতে অনড় তাইওয়ান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পরও তাইওয়ান জোর দিয়ে বলেছে, তারা একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’ রাষ্ট্র। স্বশাসিত এই দ্বীপকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে ট্রাম্পের সতর্ক করার পর তাইওয়ানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এল।

বেইজিংয়ে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সম্মেলন শেষে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ‘কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি’। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে তা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ অনুমোদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগির সিদ্ধান্ত নেবেন।

আইনগতভাবে মার্কিন প্রশাসন তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোগাতে বাধ্য। তবে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি এই মিত্রতা টিকিয়ে রাখতে প্রায়ই ওয়াশিংটনকে নানামুখী ভারসাম্যের নীতি অবলম্বন করতে হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে উল্লেখ করেছিলেন, তাইওয়ানের নতুন করে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই। কারণ, তারা নিজেদের ইতিমধ্যে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

শনিবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে একটি ‘সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ’, তা ‘স্বতঃসিদ্ধ’।

তবে কারেন কুও যোগ করেন, তাইওয়ান চীনের সঙ্গে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে তাইওয়ান যেমন চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করবে না, তেমনি চীনের সঙ্গে একীভূতও হবে না।

তাইওয়ানের বহু নাগরিক নিজেদের একটি পৃথক জাতি হিসেবে বিবেচনা করলেও অধিকাংশ মানুষই বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে।

ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। আর এটি তাদের দীর্ঘদিনের ঘোষিত অবস্থান। বেইজিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সম্পর্ক টিকে আছে এই শর্তের ওপর যে বিশ্বজুড়ে কেবল একটিই চীনা সরকার রয়েছে (ওয়ান চায়না পলিসি)।

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ গিয়ে স্বাধীন হয়ে যাক। আপনি তো জানেন, একটি যুদ্ধ করতে আমাদের ১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি এমন কিছু চাচ্ছি না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।’

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ও সি চিন পিং এই দ্বীপটি নিয়ে ‘প্রচুর’ কথা বলেছেন। তবে তাইওয়ান আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সেটি রক্ষায় এগিয়ে আসবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

ট্রাম্প জানান, এই দ্বীপটি নিয়ে সি চিন পিং ‘খুবই সংবেদনশীল’ এবং তিনি ‘স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না’।

তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের প্রতি বেইজিং বরাবরই তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। এর আগে চীন তাঁকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘তাইওয়ান প্রণালির শান্তি বিনষ্টকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন এই দ্বীপের চারপাশে সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়াশিংটনের বজায় রাখা সূক্ষ্ম ভারসাম্যের নীতি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজের বিষয়ে তাইওয়ানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি বলতে যাচ্ছি, এই মুহূর্তে তাইওয়ান যিনি চালাচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে।’

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবে দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না। কারণ, তেমনটি করা হলে বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তার প্রতি যে ধারাবাহিক সমর্থন দিয়ে আসছেন, সে জন্য আমাদের দেশ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। এর উদ্দেশ্য হলো তাইওয়ান প্রণালির শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেন কোনোভাবেই হুমকিতে না পড়ে বা বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করা, যা তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সামগ্রিকভাবে বিশ্ব গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করবে।’

ব্যাংককে ট্রেন-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৮

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সাড়ে ৯ হাজার লোক সরিয়ে নিয়েছে ফিলিপাইন

ফিলিপাইনের সিনেটে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত সিনেটরকে ধরতে অভিযান, গুলির শব্দ

কারামুক্ত হলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেপ্তার

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ছবি তুলছিলেন অভিযাত্রীরা, তখনই ঘটল অগ্ন্যুৎপাত

অস্ট্রেলিয়ায় উগ্র ইসলামপন্থী ২ নারী মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক

সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করছে দিল্লি–নেপিডো, মিয়ানমার সফরে ভারতীয় নৌপ্রধান

স্কুলে ফিরছে বেত, সিঙ্গাপুরে নতুন নিয়ম

রেকর্ড ৮ বিলিয়ন ডলার উত্তরাধিকার কর দিল স্যামসাং পরিবার